উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সারা নারায়ণগঞ্জ, ডেস্ক নিউজ ||
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যায়। পতন ঘটে আওয়ামী নেতৃত্বাধীন হাসিনা সরকারের। সে সময় পতিত সরকারটির মন্ত্রী,এমপি থেকে শুরু করে সরকারটির সমর্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ নেতাকর্মীরা পর্যন্ত আত্নগোপনে চলে যায়। কিন্ত ফতুল্লা থানার এনায়েত নগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আতাউর রহমান প্রধান ওরফে আতা মেম্বারের ক্ষেত্রে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিলো। আত্নগোপন তো দুরের কথা বরং তিনি প্রকাশ্যে থেকে নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদের হাজিরা দিয়ে আসছিলেন।বৈষম্য বিরোধী মামলার আসামী হওয়ায় এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিষিদ্ধ সংগঠন থানা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আসাদুজ্জামান ওরফে আসাদ চেয়ারম্যান পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। তার শূন্য স্থানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দ্ধায়িত্ব পায় এনায়েত নগর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সালাউদ্দিন ওরফে সালাউদ্দিন মেম্বার। পরবর্তীতে চলতি বছরের জুন মাসের শেষের দিকে পুলিশ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন কে গ্রেফতার করে। গুঞ্জন রয়েছে আতাউর রহমান প্রধান ওরফ আতা মেম্বার তার পথের কাটা সরাতে নিজস্ব সোর্স নিয়োগ করে সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করিয়েছে।সালাউদ্দিনের গ্রেফতারের পর সরকারদলীয় প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে বিশেষ করে ভাগিনা যুবদল নেতার সহায়তায় আতাউর প্রধান ওরফে আতা মেম্বার সবাইকে অবাক করে দিয়ে এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দ্ধায়িত্ব গ্রহন করেন। ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত আতাউর রহমান প্রধান ওরফে আতা মেম্বারের মতো একজন ফ্যাসিস্ট এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দ্ধায়িত্ব গ্রহণ করায় হতবাক হয়েছেন খোদ সরকার দলীয় নেতাকর্মী সহ সকল শ্রেণীর পেশাজীবি মানুষ। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোনার ঝড় বইছে। তবে জেলা যুবদলের শির্ষ পর্যায়ে থাকা তরুন নেতা ও তার বাহিনীর ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করেনি। এমনকি বিএনপির শির্ষ মহলরে প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও এক্ষেত্রে তাদের ভুমিকাও রহস্যজনক। সরকার দলীয় শির্ষ নেতারা সামান্য কর্ণপাত টুকু পর্য়ন্ত করেননি। কিন্ত দুদিন পূর্বে জেলা মহিলা দলের সহ সভাপতি রোজিনা মেম্বারের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যের পর নতুন করে আলোচনায় আসে আতাউর রহমান প্রধান ওরফে আতা মেম্বারের নাম।তথ্য মতে, মাসদাইর প্রধান বাড়ীর আত্নীয় জেলা যুবদলের শির্ষ পদধারী তরুন নেতার সাথে ফ্যাসিস্ট দোসরদের সাথে সম্পর্ক বা যোগসাজশের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। অভিযোগ রয়েছে, আতাউর প্রধান ওরফে আতা মেম্বারের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার নৈপথ্যের নায়ক হলেন ঐ যুবদল নেতা। বিপুল পরিমান অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিস্ট মহলকে ম্যানেজ করে ফ্যাসিস্ট দোসর আতাউর রহমান প্রধান ওরফে আতা মেম্বার কে চেয়ারম্যানের আসনে বসিয়ে বলে চাই রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আতাউর রহমান প্রধান খাতা-কলমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দ্ধায়িত্বে থাকলেও অঘোষিত চেয়ারম্যান হলেন ঐ যুবদল নেতা। সরকার থেকে বরাদ্দ পাওয়া যে কোন কিছু ঐ যুবদল নেতাই নিয়ন্ত্রণ করেন। আতাউর রহমান প্রধান সম্পর্কে স্থানীয় একাধিক মহল জানায়, তিনি ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। তিনি আবার সম্পর্কে ঐ যুবদল নেতার মামা। হাসিনা সরকারের শাসনামলে তিনি সরাসরি আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ঢাকা বা নারায়নগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রতিটি মিছিল, মিটিংয়ে ও সমাবেশে অংশ নিতেন। তিনি মিছিলে নেতৃত্বদানকারী প্রথম সারীর একজন ছিলেন।নিয়মিত রাইফেল ক্লাব এবং শাহ নিজামের পার্ক বলে পরিচিত নম পার্কে শাহ নিজামের নিকট যেতেন। ছাত্র- জনতার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে তার ভুমিকা,ছিলো বহগুনে বিতর্কিত। ৫ আগস্ট দুপুর,পর্যন্ত মতি প্রধান,গাফফার,মিজান সহ আওয়ামী নেতা কর্মীদের নিয়ে মাসদাইর পৌর স্মশানের সামনে অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে অবস্থান করেছিলেন। বিসিক,শিল্প পার্ক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল চাষাড়া যাওয়ার পথে হামলা চালিয়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গের পাশাপাশি পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত করে ৭-৮ জন কে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে বিতর্কিত ভুমিকায় অবতীর্ণ ও হাসিনা সরকার শাসনমালে মিছিল, মিটিংয়ের প্রথম সারীর এই চিন্থিত ফ্যাসিস্টকে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দ্ধায়িত্ব প্রদানের বিষয়টাকে অনেকেই সোনায় সোহাগার সাথে তুলনা করছেন।স্থানীয় তৃণমূল পর্যায় থেকে শির্ষ মহলের নেতাকর্মীদের দাবী,আতাউর রহমান ওরফে আতা মেম্বারের হাসিনা সরকারের শাসনামলের ভুমিকা ও রাজনৈিতিক পরিচয় সঠিক ভাবে তদন্ত করে তাকে দ্ধায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে আইনের আওতায় এনে কারাগারে যেনো পাঠানো হয়। একই সাথে বিভিন্ন গোয়োন্দা সংস্থার মাধ্যমে আতা মেম্বারের আশ্রয়-প্রশয় দাতাকে চিন্থিত সহ চেয়ারম্যানের দ্ধায়িত্ব প্রদানে কার কার ভুমিকা রয়েছে খুঁজে বের করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দাবী উঠেছে। এদিকে, আওয়ামী সরকারের সময়ে আতা মেম্বারের মিছিল মিটিংয়ে বহু ছবি ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পরেছে। আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে একটি ছবি থাকলে বা দেখলে তাকে গ্রেফতার করে মামলার আসামী করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। সেখানে মিছিল,মিটংয়ের প্রথম সারীতে থাকা চিন্থিত ফ্যাসিস্ট দোসররের শতশত ছবি থাকা সত্বেও আতাউর রহমান প্রধানকে আইনের আওতায় না এনে বানানো হয়েছে চেয়ারম্যান। কার স্বার্থ,কার ক্ষমতাবলে, আর কেনোইবা আতা মেম্বারকে চেয়ারম্যান বানানো হলো এ সকল নানা প্রশ্ন উঠে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রবীন আইনজীবি ও ফতুল্লা থানার সাধারণ সম্পাদক এডঃ বারী ভুইয়া জানান, আমরা চেয়েছিলাম সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হউক। সে অনুযায়ী জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ অনুরোধ নিয়ে আমি ও এনায়েত নগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এডঃ আলমগীর দরখাস্ত নিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট যাই। তখন বিস্তারিত শুনে ডিসি তাদেরকে জানায় যে প্রশাসক নিয়োগের কোন নিয়ম নেই। তাদেরকে আশ্বস্ত করেন এই বলে যে,তিনি এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে জানাবেন কি ভাবে কি করতে হবে। তারা চলে আসার কয়েকদিন পর জানা যায় আতাউর রহমানকে এনায়েত নগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দ্ধায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ ডিসি নিয়ম নেই বললেও রুপগঞ্জের একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের স্থলে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ডিসির দ্বিচারিতার বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক।এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু জানান, বিষয়টি যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে খুবই দুঃখ জনক। তিনি আগে জানতেন না যে ফ্যাসিস্ট দোসর আতা মেম্বার কে এনায়েত নগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিএনপির শির্ষ মহল সহ সরকারি সংশ্লিস্ট মহল কে ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করার পাশাপাশি দ্ধায়িত্ব থেকে অব্যহতির পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবী জানাবেন।