উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সারা নারায়ণগঞ্জ, ডেস্ক নিউজ ||
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুইগড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মহসিন ওরফে মাইচ্ছা মহসিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৮০টি পাসপোর্ট, কয়েকটি জাল সিল, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, একটি সুইচগিয়ার ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার অপর দুজন হলেন—সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আজিবপুর এলাকার মৃত জয়নাল মিয়ার ছেলে মো. রাশেদ এবং ফতুল্লার শান্তিধারা এলাকার হাজী আব্দুল জব্বার মিয়ার ছেলে তানহা।বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. শামীমের নেতৃত্বে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি দল ভুইগড়ের কেএমএস টাওয়ারের তৃতীয় তলায় একটি অফিসে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার মহসিন ওরফে মাইচ্ছা মহসিন ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার মৃত মুছা বেপারির ছেলে। তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানাতেও তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য, মাইচ্ছা মহসিন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে দেলপাড়া এলাকায় তার বাসায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আইস ও ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনাও ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে মহসিনের সঙ্গে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলনের যোগাযোগ তৈরি হয়। এরপর ভুইগড় এলাকায় অবস্থান নিয়ে সে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কেএমএস টাওয়ারের ওই অফিসটি তারা মেহেদী হাসান দোলনের অফিস হিসেবে জানতেন। তবে অভিযানে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবনটিতে দোলনের একটি অফিস রয়েছে এবং অভিযানে যে অফিসে অভিযান চালানো হয়েছে সেটি রাশেদ নামের এক ব্যক্তি ভাড়া নিয়েছিলেন।ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক মিলন ফকির বলেন, ‘যে অফিসে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে সেটি রাশেদ নামের একজন ভাড়া নিয়েছিলেন। একই ভবনে ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান দোলনেরও একটি অফিস রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ওই অফিসে কোনো একজন নেতা নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।’তিনি বলেন, অভিযানের সময় ৮০টি পাসপোর্ট, জাল সিল, ভুয়া এনআইডি কার্ড ও একটি সুইচগিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক সেবনের সরঞ্জামও পাওয়া গেছে। এসব কারণে অফিসটিতে মাদক সেবনের আসর বসত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।পুলিশ আরও জানায়, অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে অপরাধী চক্রের আর কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. শামীম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তারা একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।’