উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সারা নারায়ণগঞ্জ, ডেস্ক নিউজ ||
নারায়নগঞ্জ শহর ও শহরতলীর আশপাশের বাসিন্দাদের নিকট তারকা বা শির্ষ সন্ত্রাসীরা আতংকের কারন নয়;উঠতি বয়সী কিশোর-তরুনরাই এখন আতংকের কারন।চুন থেকে পান খসলেই সামান্য কিছুতেই এরা দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্র, চাপাতি,ছুরি, রামদা,চাইনিজ কুড়াল কখনো বা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে।প্রতিটি পাড়া-মহললাতেই রয়েছে উঠতি বয়সী কিশোর-তরুনদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা এক বা একাধিক বাহিনী। স্থানীয় ভাবে এরা কিশোর গ্যাং নামেই পরিচিত। এসকল বাহিনীর সদস্যদের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছর হবে।এসব গ্রুপের মধ্যে কোনো কোনোটি নির্দিষ্ট এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সক্রিয়। আবার কিছু গ্রুপের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।পরিধেয় পোষাকই তাদের কে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়। তাদের চাল চলনে উশৃংখলতার ছাপ স্পস্ট হয়ে ফুটে উঠে। এদের অধিকাংশরাই আবার মাদকাসক্ত। নিন্ম বিত্ত নিন্ম আয়ের পরিবার থেকে উঠে আসা কিশোর-তরুনরাই এই কিশোরগ্যাংয়ের অধিকাংশ সদস্য । মধ্যবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের থেকে আসা উঠতি বয়সী তরুন বা কিশোর এই শ্রেনীর বাহিনীর লিডার হয়। তাদের আবার শেল্টার দেয় তথাকথিত রাজনৈতিক "বড় ভাইয়েরা"।আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মারামারি থেকে শুরু করে হত্যাকান্ডের মতো ভয়ংকর সব অপরাধের জন্ম দিতেও তারা সামান্য ভাবেনা।জেলা শহর কিংবা আশপাশ সহ প্রতিটি গ্রাম-এলাকাতেই এদের সু স্পস্ট প্রভাব রয়েছে। তবে জেলা শহর ও শহরতলীর আশপাশ এলাকাগুলোতেই এরা ভয়ংকর থেকে ভয়ংকর রুপ ধারন করে। প্রতিটি বাহিনীর ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত।এ সকল বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যরা নিন্ম বিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসায় তারা নামে মাত্র বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান বা কারখানায় চাকুরি করে থাকে। দিনের বেলায় চাইতে সন্ধ্যা নামতে না নামতেই তারা দলবদ্ধ হতে শুরু করে। ফাঁকা জায়গা গুলোতে তারা দলবদ্ধ হয়ে মাদক সেবনের আড্ডায় মেতে উঠে। এই আড্ডা চলে গভীর রাত পর্যন্ত কখনো বা রাত পেরিয়ে সকাল পর্যন্ত গড়ায়।এরা কখনো প্রশাসনের হাতে গ্রেফতার হলে তাদের কে ছাড়িয়ে আনতে ছুটে যায় তথাকথিত " বড় ভাইয়েরা"। নির্দোষ দাবী করে প্রশাসনের সদস্যদের প্রমাণস্বরুপ দেখানো হয় নামে-বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাজিরা কার্ড। সেই সাথে প্রভাবশালী মহলের ফোন এবং নগদ অর্থের লেনদেনে মুক্তি পেয়ে যায় সহজেই।জানা যায়, এ সকল বাহিনীর তালিকা না থাকায় তাদের কে গ্রেফতার করাও যাচ্ছেনা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। প্রতিটি পাড়া মহল্লার বাহিনী সদস্যদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার বিষয়টি পক্রিয়াধীন রয়েছে। নির্দেশ পাওয়া মাত্রই তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে চলতি বছরের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় খুন হয় ১১ বছর হোসাইন নামের এক কিশোর। পুলিশ সে সময় জানিয়েছিলো, "জেল খাটতে কেমন লাগে"—কেবলমাত্র এই অদ্ভুত ও ভয়াবহ কৌতূহল থেকে ৬ কিশোর মিলে শিশু হোসাইনকে হত্যার পরিকল্পনা করে. তারা হোসাইনকে গাঁজার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এই ঘটনায় পরবর্তীতে পুলিশ ৫ কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। মে মাসে কলাবাগ-ঝাউতলা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘ফারদিন গ্রুপ’-এর বিরুদ্ধে হামলা, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। জুলাইয়ে দেউলী চৌরাপাড়া এলাকায় একটি পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগে কিশোর গ্যাং নেতা হিসেবে পরিচিত এক কিশোরসহ কয়েকজন গণপিটুনির শিকার হয়। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ২০ আগস্ট সালেহনগর এলাকায়। সেখানে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় একটি কিশোর অপরাধী দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ওই মামলায় কিশোর গ্যাং লিডার শেখ সিফাতসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। ফতুল্লা এলাকায় স্থানীয়ভাবে আলোচিত কিশোর গ্যাং লিডারদের মধ্যে রয়েছে মাসদাইরের অনিক-সিফাত আরফান, রবিউল ইসলাম রানা, ইয়াদ, সামির, আশরাফ, আমির ওরফে 'মুরগি আমির', আমির, জিহাদ ও মুন্না। সিদ্ধিরগঞ্জে 'টেনশন গ্রুপ' ও 'ডেভিল এক্সা গ্রুপ',সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজিতে 'টাইগার গ্রুপ', সুনীলপাড়ায় আক্তার-বাসেত' গ্রুপ, সানারপাড়ে 'ডংকু গ্রুপ', কদমতলীর পাইন্দি ও নতুন মহল্লায় 'সাদ্দাম গ্রুপ', মুক্তিনগরে 'ডেঞ্জার গ্রুপ' এবং হীরাঝিলে 'সাইফুল গ্রুপ' সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।বন্দরে ব্লাক জনি গ্রুপ,নবীগঞ্জ এলাকায় 'আরিফুল গ্রুপ', হাজারীবাগ এলাকায় 'রাতুল গ্রুপ', বন্দর বটতলায় 'ফারদিন গ্রুপ।এ ছাড়া ফতুল্লার ইসদাইরে 'সোহরাব গ্রুপ,মাসদাইরে" অনিক গ্রুপ", সিফাত গ্রুপ, কাপুড়াপট্টিতে 'রকি গ্রুপ' এবং সস্তাপুরে 'আলমগির গ্রুপ' দাপা সাহারা সিটি এলাকায় "আজমির-আসিফ গ্রুপ", দাপা খোজ পাড়ায় "স্বপন গ্রুপ", রেলস্টেশন চেয়ারম্যান বাড়ী গলির " শান্ত বাহিনী" পিলকুনী এলাকায় সিফাত বাহিনী,পেয়ারা বাগান এলাকায় "সোহাগ বাহিনী",শারজাহান রোলিং মিলস এলাকায় "নাদিম-মেহেদী বাহিনী" ইয়াদ আলী মসজিদ গলির "হৃদয় বাহিনী"কাঠেরপুল রামারবাগ এলাকায় সোহেল বাহিনী," রিয়া গোপস্টেডিয়াম এলাকায় "মোহন বাহিনী" পঞ্চবটী এলাকায় "অভি বাহিনী" রেলস্টেশন এলাকায় "শাহিন বাহিনী" কুতুবপুর পাগলা এলাকায়"গাল কাটা জনি গ্রুপ" রসুলপুর এলাকা"সেজান গ্রুপ",বৈড়াগী বাড়ী এলাকায়"আকাশ গ্রুপ"পাগলা রেললাইন এলাকায় "রিদয় -রায়হান-করিম বাহিনী,শাহী বাজার এলাকায় "ইমারান গ্রুপ, নুরবাগে "নাঈম গ্রুপ"চিতাশালে "শুভ গ্রুপ" নয়ামাটি "সাগর গ্রুপ"এসব নামের বাইরেও শহর এবং শহরতলীর আশপাশ প্রতিটি পাড়া-মহল্লাগুলোতে ছোট-বড় আরও অনেক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একেকটি গ্রুপের সদস্য সংখ্যা খুব বেশি না হলেও কোনো ঘটনা ঘটলে তারা দ্রুত দলবদ্ধ হয়ে যায়। এ কারণে ছোটখাটো বিরোধও অনেক সময় বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। এলাকায় নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে বিরোধও তৈরি হয়। এতে সাধারণ মানুষও আতঙ্কের মধ্যে থাকেন।কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারের পেছনে একাধিক কারন রয়েছে বলে মনে করা হলেও তথাকথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারন এবং মাদক দ্রব্যই মূল প্রধান কারন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া প্রশাসনের নিকট নেই এদের তালিকা। ফলে তাদেরক চিন্থিত করে গ্রেফতার করাও যাচ্ছেনা। কিশোরদের একটি অংশ রাজনৈতিক কিংবা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে চলাফেরা করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে বলে অভিাযোগ রয়েছে।প্রশাসনের শির্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, এ সকল গ্যাং কালচারের বিরুদ্ধে অচিরেই কঠোর অভিযানে নামবে প্রশাসন।কোন প্রকার তদ্ধিরে কাজ হবেনা। বরং তদ্ধিররকারদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আসতে পারে সংশ্লিস্ট শির্ষ মহল থেকে।