উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সারা নারায়ণগঞ্জ, ডেস্ক নিউজ ||
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানকে দেওয়া শোকজের জবাব দিয়েছেন তিনি। শোকজ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার রাতে লিখিত জবাব দেন আনোয়ার প্রধান।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল মো. ইউসুফ খান টিপু স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে তাকে কারণ দর্শানোর জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। ৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংগঠনিক কার্যক্রমে অনুপস্থিতি এবং গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যসহ কয়েকটি বিষয়ে তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শোকজের জবাব প্রকাশ করেন আনোয়ার প্রধান। ‘শোকজের জবাব—সবার আগে বাংলাদেশ’ শিরোনামে দেওয়া জবাবে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন, অস্পষ্ট ও অযৌক্তিক বলে দাবি করেন।জবাবে আনোয়ার প্রধান বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে তার অনুপস্থিতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত অংশ নিয়েছেন দাবি করে তিনি জানান, ২৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় ২১টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয় এবং প্রায় ১২৫ দিন তিনি কারাগারে ছিলেন।৬ অক্টোবরের আইনজীবী সমিতির ঘটনার বিষয়ে আনোয়ার প্রধান তার জবাবে বলেন, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে কয়েকজন আইনজীবী নারায়ণগঞ্জ দায়রা জজ আদালতের পিপির ওপর হামলা করেন। তার দাবি, ওই পরিস্থিতিতে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে তিনি সচেষ্ট ছিলেন এবং পিপিকে সেখান থেকে উদ্ধারেরও চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে হামলার প্রতিবাদ ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিচার দাবি করেন তিনি।গণমাধ্যমে তার বক্তব্যের আংশিক প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও জবাবে দাবি করেন আনোয়ার প্রধান। তবে শোকজ নোটিশে নির্দিষ্ট কোনো মিডিয়া বা তার দেওয়া বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট অংশ উল্লেখ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।এ ছাড়া স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট সুমনকে ঘিরে শোকজে উত্থাপিত অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তার দাবি, এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সুমন জেলা আইনজীবী সমিতি বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেননি।শোকজে অভিযোগের বিবরণ স্পষ্ট নয় এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী—এমন দাবি করে আনোয়ার প্রধান বলেন, এ ধরনের নোটিশ ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী দাবি করে তার বিরুদ্ধে দেওয়া শোকজ নোটিশ প্রত্যাহারের আবেদন জানান।