উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সারা নারায়ণগঞ্জ, ডেস্ক নিউজ ||
দেশজুড়ে চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও আলোচিত সন্ত্রাসীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল। পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) প্রস্তুত করা তালিকা অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে ৫৬৫ জন চাঁদাবাজ ও ৪০৮ জন আলোচিত সন্ত্রাসী চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নিয়ে তৈরি এই তালিকা ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রস্তুত করা ‘আলোচিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং ছিনতাইকারীর সামারি’ শীর্ষক নথি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এসআরবির ১৫টি ব্যাটালিয়নের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সারা দেশে ৩ হাজার ৫৮৬ জন চাঁদাবাজ, ২ হাজার ২৫৮ জন আলোচিত সন্ত্রাসী এবং ৫৩৪ জন ছিনতাইকারীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।তালিকায় রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের নামও রয়েছে। তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একাধিক মামলা থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত হওয়া মানেই কেউ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়।এসআরবির মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তালিকাটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। কাউকে হয়রানি না করে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যেই এই কার্যক্রম চলছে।তথ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজের সংখ্যায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের এসআরবি-১১ ব্যাটালিয়ন। এই ব্যাটালিয়নের তালিকায় রয়েছেন ৫৬৫ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম অঞ্চলের এসআরবি-৭ ব্যাটালিয়নে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজের সংখ্যা ৫০৩। দুই ব্যাটালিয়ন মিলিয়ে ১ হাজার ৬৮ জন, যা দেশজুড়ে তালিকাভুক্ত মোট চাঁদাবাজের প্রায় ৩০ শতাংশ।এসআরবি-১১-এর আওতায় নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও নরসিংদী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্দিষ্ট অংশ, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর কিছু এলাকা রয়েছে। ফলে এই ব্যাটালিয়নের তালিকার সব ব্যক্তিই যে নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা, তা বলা যায় না।চাঁদাবাজের সংখ্যায় এরপর রয়েছে সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের এসআরবি-১২ ব্যাটালিয়নে ২৭৭ জন, রাজশাহীর এসআরবি-৫-এ ২১৬ জন, খুলনার এসআরবি-৬-এ ২০০ জন, রংপুরের এসআরবি-১৩-তে ১৮৭ জন, বরিশালের এসআরবি-৮-এ ১৪৯ জন এবং সিলেটের এসআরবি-৯-এ ১২৩ জন। তালিকায় কক্সবাজারের এসআরবি-১৫-এ ৭২ জন এবং ময়মনসিংহের এসআরবি-১৪ ব্যাটালিয়নে ৭০ জন চাঁদাবাজের নাম রয়েছে।রাজধানী ও আশপাশের পাঁচটি ব্যাটালিয়নের তালিকায় চাঁদাবাজের সংখ্যা ১ হাজার ২৫৪। এর মধ্যে উত্তরা ও গাজীপুর অঞ্চলের এসআরবি-১-এ ৩৯৩ জন, মিরপুর অঞ্চলের এসআরবি-৪-এ ৩৪৭ জন, কেরানীগঞ্জ ও পুরান ঢাকার এসআরবি-১০-এ ২৭৭ জন, তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুর এলাকার এসআরবি-২-এ ২১৫ জন এবং শাহজাহানপুর, পল্টন ও রমনা এলাকার এসআরবি-৩-এ ২২ জন রয়েছেন।চিহ্নিত ২ হাজার ২৫৮ জন আলোচিত সন্ত্রাসীর তালিকাতেও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের এসআরবি-১১ ব্যাটালিয়ন প্রথম স্থানে রয়েছে। এই অঞ্চলে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর সংখ্যা ৪০৮ জন। এরপর সিরাজগঞ্জের এসআরবি-১২ ব্যাটালিয়নে ৩২৪ জন, চট্টগ্রামের এসআরবি-৭-এ ২৭৭ জন এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলে ২৩৯ জনের নাম রয়েছে।এ ছাড়া রাজশাহীতে ২১৬ জন, খুলনায় ২১৪ জন, সিলেটে ১৯৫ জন এবং কেরানীগঞ্জ অঞ্চলে ১০০ জন আলোচিত সন্ত্রাসীর নাম তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে মালিবাগ, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর ও মুগদা এলাকার এসআরবি-৩ ব্যাটালিয়নের তালিকায় কোনো আলোচিত সন্ত্রাসীর নাম নেই বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।নথি অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ৫৩৪ জন ছিনতাইকারীর সবাই রাজধানী ও আশপাশের পাঁচটি ব্যাটালিয়নের আওতাভুক্ত। বাকি ১০টি ব্যাটালিয়নের তালিকায় ছিনতাইকারীর সংখ্যা শূন্য।ছিনতাইকারীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার এসআরবি-২ ব্যাটালিয়ন। এখানে তালিকাভুক্ত রয়েছেন ১৩০ জন। মিরপুরের এসআরবি-৪-এ ১১২ জন, কেরানীগঞ্জ ও পুরান ঢাকার এসআরবি-১০-এ ১০৩ জন, শাহজাহানপুর ও পল্টন অঞ্চলের এসআরবি-৩-এ ৯৯ জন এবং উত্তরা অঞ্চলের এসআরবি-১-এ ৯০ জনের নাম রয়েছে।শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শিল্পাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে গত দুই মাসে চাঁদাবাজির মামলায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারীদের দমনেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। শিল্পাঞ্চল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছেন ভুক্তভোগীদের অনেকে।এসআরবির এই তালিকা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হতে পারে। তবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়