উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সারা নারায়ণগঞ্জ, ডেস্ক নিউজ ||
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রতিপক্ষের গুলিতে শির্ষ সন্ত্রাসী ২০ মামলার আসামী সাহেব আলী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা কলোনি এলাকার ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, সাহেব আলীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক, সন্ত্রাস ও নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০টি মামলা ছিল।সাহেব আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে সাহেব আলীর সঙ্গে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরোধের জেরে গুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রনি ও আসলামের নাম উঠে এসেছে। তবে বিরোধের প্রকৃত কারণ এবং হামলায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।স্থানীয়দের বক্তব্য ও সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সময় সাহেব আলী উত্তেজিত অবস্থায় ছিলেন। একপর্যায়ে রনি তাঁকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে সাহেব আলী পাশের একটি খালে পড়ে গেলে তাঁকে লক্ষ্য করে আরও দুটি গুলি ছোড়া হয় বলে প্রাথমিক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক এর আগে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন, ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।=২০ মামলার আসামি ছিলেন সাহেব আলী=র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাহেব আলীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় মোট ২০টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সাতটি, মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত দুটি, নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও নাশকতার তিনটি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাঁচটি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের ছদ্মবেশে ডাকাতির দুটি মামলা রয়েছে।২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের বউবাজার এলাকায় সাহেব আলীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় র্যাব। সে সময় তাঁকে আটক করা হলেও তাঁর সহযোগীরা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় র্যাব সদস্যসহ চারজন আহত হন। পরে একই বছরের অক্টোবরে র্যাব-১১ ও র্যাব-৯-এর যৌথ অভিযানে সুনামগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।=পুলিশের ওপর হামলার মামলারও প্রধান আসামি=চলতি বছরের ১৫ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনি এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সাহেব আলীকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়। ওই ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চুরি যাওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধারে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হন। ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় সাহেব আলীকে ঘিরে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ এবং তাঁকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক অভিযান নিয়ে আলোচনা ছিল। এবার গুলিতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হামলার কারণ এবং বিরোধের নেপথ্য তথ্য উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি এখন গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে পুলিশের পরবর্তী বক্তব্য ও তদন্তের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।