উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সারা নারায়ণগঞ্জ, ডেস্ক নিউজ ||
একজন অটোরিকশাচালকের মানবিক উদ্যোগে শুরু, আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আন্তরিক প্রচেষ্টায় শেষ হলো চার বছর বয়সী শিশু আবদুল্লাহর পরিবারে ফেরার গল্প। বাসা থেকে হারিয়ে যাওয়া, দুর্ঘটনায় আহত হওয়া, অটো রিকশা চালক উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া,স্বজনদের খোঁজে শিশুটিকে নিয়ে ফিরে আসা এবং দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর প্রায় চার ঘণ্টার প্রচেষ্টায় শিশুটিকে খুঁজে বের করে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অটোরিকশাচালক ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহীর কর্মকর্তা(ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।শুধু শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই নয়, তার পরবর্তী চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা ও শুকনো খাবারও দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া এবং পরিবারের সন্ধান পেতে সহযোগিতা করায় অটোরিকশাচালককে সম্মানী দেওয়া হয়েছে।ঘটনা সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশু আবদুল্লাহ। পরে সকাল ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের গাবতলা মোড় এলাকায় একটি অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হয় সে। এ অবস্থায় শিশুটিকে ফেলে না রেখে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান অটোরিকশাচালক। সেখানে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পর তাকে নিয়ে এলাকায় ফিরে স্বজনদের খোঁজ শুরু করেন তিনি।দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির পরিবারের সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আবদুল্লাহকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি বাসভবনে যান ওই চালক।বিষয়টি জানার পরপরই শিশুটির পরিচয় শনাক্ত ও পরিবারের সন্ধান পেতে উদ্যোগ নেন ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ। স্থানীয় ইউপি সদস্য কাজী মাঈনুদ্দিন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় প্রায় চার ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের লালখা এলাকায় শিশুটির পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়।শিশুটির বাবা আনোয়ার ও মা আয়েশা ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। পরে ইউএনওর উদ্যোগে শিশুটিকে তার স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর শিশুটিকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরে আসে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। এ সময় তারা উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অটোরিকশাচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।শিশুটির পরবর্তী চিকিৎসার প্রয়োজন বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং তার পরিবারের সন্ধান পেতে সহযোগিতা করায় অটোরিকশাচালককে সম্মানী প্রদান করা হয়।স্থানীয়দের মতে, বিপদে পড়া একটি শিশুকে নিজের দায়িত্বে হাসপাতালে নেওয়া থেকে শুরু করে তার পরিবারের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত পাশে থেকেছেন ওই অটোরিকশাচালক। অন্যদিকে, শিশুটিকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে দ্রুত উদ্যোগ নেন ইউএনও ও স্থানীয় ব্যক্তিরা। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত পরিবারের কাছে ফিরতে পেরেছে আবদুল্লাহ।একজন চালকের মানবিকতা, প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।