উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সারা নারায়ণগঞ্জ, ডেস্ক নিউজ ||
ফতুল্লায় যুবদল ক্যাডার শারজিল আলম অভি'র ঘনিষ্ঠ সহোচর রাজিব (৪২) কে ধর্ষনের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।বুধবার রাতে তাকে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।তবে থানা পুলিশের অপর একটি সূত্রের পাশাপাশি রাজিবের স্বজনদের দাবী, ড্রেজার মাসুদ,রাজিব, রানা সহ আরো ২/৩ জন থানায় গিয়েছিলো। তখন পুলিশ রাজিব কে আটক করে ড্রেজার মাসুদ এবং রানা কে ছেড়ে দেয়।গ্রেফতারকৃত রাজিব নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও সে মূলত যুবদল ক্যাডার সারজিল আলম অভি'র ঘনিষ্ঠ সহোযোগি বলে জানা গেছে।পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা আরেকটি মামলায় রাজীবসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন রাসেল, টিটু ও লাবনী। ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক রফিক জানান, ওই মামলায় লাবনীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে রহস্যজনক কারনে ঘটনার মূল হোতা মাসুদ ওরফে ড্রেজার মাসুদ কে আসামী করা হয়নি। স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে, মাসুদ ওরফে ড্রেজার মাসুদই রাজিব কে ফোন করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। রাজিবকে বাইরে রেখে ড্রেজার মাসুদ অফিসের দরজা লাগিয়ে দেয়। ২০-৩০ মিনিট পর ড্রেজার মাসুদ বাইরে এলে রাজিব অফিসে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে রাজিব দরজা খুলে দিলে তারা সকলেই অফিস রুমে ঘন্টা খানেকের মতো আলাপ আলোচনা করে। অতপর ড্রেজার মাসুদ ঐ তরুণীদ্ধয় কো বের হয়ে যায়। সূত্রটির দাবী, এই ঘটনার মূল হোতা হচ্ছে মাসুদ ওরফে ড্রেজার মাসুদ। ড্রেজার মাসুদ কে গ্রেফতার করা হলে বেরিয়ে আসবে ঘটনার মূল রহস্য। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।মামলার অভিযোগে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, তিনি ও তাঁর চাচাতো বোন লাবনীর সঙ্গে একই বাসায় ভাড়া থাকতেন। সেখানে লাবনী তাঁদের রাজীব ও রাসেলের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর প্রস্তাব দিতেন। পরে লাবনীর সাবেক স্বামী টিটুসহ রাজীব ও রাসেল বাসায় যাতায়াত শুরু করেন এবং একই ধরনের প্রস্তাব দেন।ওই নারীর অভিযোগ, এসব প্রস্তাবে বিরক্ত হয়ে বাসা ছাড়ার কথা জানালে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়। গত ১৮ অক্টোবর ভাড়া পরিশোধ করে তাঁরা অন্যত্র আশ্রয় নেন। সেদিন বিকেলে জামাকাপড় আনতে গেলে লাবনী ও টিটু তাঁকে আটকে রেখে মারধর করেন। অন্যদিকে রাজীব ও রাসেল তাঁর চাচাতো বোনকেও ধরে এনে আটকে রাখেন।মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ১৯ অক্টোবর দুপুরে তাঁদের দুজনকে রাজীবের একটি ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই নারীকে আটকে রেখে রাজীব ধর্ষণ করেন। একই সময়ে তাঁর চাচাতো বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রাসেল। ব্যর্থ হয়ে তাঁকে মারধর করা হয়।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাঁদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর চাচাতো বোনের স্বামীকে ফোন করে আরও ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পরে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মিথ্যা বক্তব্য লিখে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।রাজীবের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘রাজীব একসময় আওয়ামী লীগ করতো। ইদানীং সে বিএনপির সাথে ঘেঁষা শুরু করেছে। তবে তার কোনো পদপদবি আমরা পাইনি।’জানা যায়,গ্রেফতারকৃত রাজীবের সাথে ফতুল্লা থানা বিএনপির একাধিক শির্ষ নেতা সহ জেলা যুবদলের শির্ষ নেতা থেকে শুরু করে অনেক নেতার সাথেই ছবি রয়েছে। স্থানীয় প্রতক্ষদর্শীদের মতে, সেদিনের ঘটনার আশপাশের সিসিফুটেজ দেখলে সহজেই পাওয়া যাবে ড্রেজার মাসুদের উপস্থিতি। স্থানীয়রা জানায়,যুবদল ক্যাডার সারজিল আলম অভির ঘনিষ্ঠ সহোযোগি গ্রেফতারকৃত রাজিব, ড্রেজার মাসুদ ও রানা। অভির সাথে তারা যৌথ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে বৃহত্তর পঞ্চবটী,ডালডা গেইট,গুলশান রোড,প্রেম রোড,ধর্মগঞ্জ,পাকাপুল,হরিহর পাড়া,শিষ মহল,আমতলা সহ আশপাশ এলাকাজুড়ে বিস্তার লাভ করা মাদক বাজার। তাছাড়া স্থানীয় মহলজুড়ে চাঁদাবাজী,কিশোর গ্যাং আশ্রয়,মেথর খোলা রোড এলাকায় ছিনতাই চক্র আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতা,,চাঁদনী হাউজিং এলাকায় বাসা বাড়ীর চোরাই গ্যাস সংযোগের অর্থ উত্তোলোন, মাটির নিচে থাকা পিডিবির ক্যাবল, ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে নারী দিয়ে যৌন ব্যবসা ও সময় সুযোগ বুঝে ব্ল্যাক মেইলিংয়ের মতো বড় ধরনের অপরাধের জন্ম দিতো। এসকল অপরাধের পাশাপাশি অভি নিজেই একটিকিশোর গ্যাং কে সরাসরি শেল্টারের পাশাপাশি মেথর খোলা রোড এলাকায় একটি ছিনতাই চক্র নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।স্থানীয় মহলগুলোর দাবী,পুলিশ যেনো মামলাটি সঠিক ভাবে তদন্ত করে। কোন মহল দ্ধারা প্রভাবিত না হয়ে তদন্ত সঠিক ভাবে করা হলে বেরিয়ে আসবে আসল রহস্য।