কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাদ জোহর ফতুল্লার পোস্ট অফিস সংলগ্ন শাহজাহান রোলিং মিলের পাশে বায়তুল নাজাত জামে মসজিদে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।নিহতরা হলেন—নাফিজ তেহামি (২৪), তার বড় বোন ফারিয়া কবির (৩৩) এবং ফারিয়ার সাত বছর বয়সী ছেলে মো. ফাইজান নূর। তাদের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।নাফিজ তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টার্স ইন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে, ফারিয়ার ছেলে ফাইজান নূর চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের কেজি-টু শ্রেণিতে পড়ত।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের দাদা ও নানার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। দাদার কবরের পাশেই তাদের সমাহিত করা হয়েছে।নাফিজ তেহামির বাবা জিহাদুল কবির একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। ফারিয়া কবিরের স্বামী নূর আলম ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে কর্মরত রয়েছেন।স্বজনরা জানান, পরিবারের সদস্যদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তারা শোকে পাথর হয়ে গেছেন। তাদের ভাষায়, এক দুর্ঘটনায় পরিবারের একটি প্রজন্ম শেষ হয়ে গেল। নাফিজকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল। মেধাবী এই তরুণকে নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও ছিল অনেক। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন শুধুই স্মৃতি।এ ঘটনায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে হয়তো এমন করুণ পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো।পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, তারা মোট ১০ জন কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় নিহত আরেক খালাতো বোন মেহজাবিনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এবং অন্য দুই খালাতো বোন ইসরাত জাহান ও লায়লা জাহান নাবিলাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দাফন করা হয়েছে।উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে একই পরিবারের এই তিন সদস্যকে নারায়ণগঞ্জের দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।