দীর্ঘ ৫১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ভোটের মাধ্যমে কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট। আগামী ৩১ অক্টোবরের নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। সাধারণ সম্পাদক ও পাঁচটি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীদের যোগাযোগ বেড়েছে।২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে। নির্বাচনে একজন ভাইস চেয়ারম্যান, একজন সাধারণ সম্পাদক ও পাঁচজন সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে।ভাইস চেয়ারম্যান পদে অ্যাডভোকেট নবী হোসেন ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম খান।অন্যদিকে পাঁচটি সদস্য পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আটজন। তাঁরা হলেন—সরকার হুমায়ুন কবির, জাকির হোসেন, ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, মাকসুদউল আলম খান খোরশেদ, নিরব রায়হান, নাজমুল হক ও হারুনুর রশীদ খান। ফলে সদস্য পদগুলোতেও ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল বিকেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নির্বাচন পরিচালনা, আচরণবিধি ও ভোটগ্রহণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। তাই নির্বাচনটি স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা আমাদের সবার দায়িত্ব। ভোটারদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের।”নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের স্লোগান দেওয়া বা মিছিল করা যাবে না। তবে প্রার্থী নিজে ভোট চাইতে পারবেন। অন্য কেউ কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে চাইলে তাঁকে অবশ্যই নির্বাচন এলাকার বাইরে থেকে তা করতে হবে।অধ্যাপক মামুন মাহমুদ আরও বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের ৫১ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম ভোটের মাধ্যমে কমিটি হচ্ছে। আমরা ভোটের পক্ষে। ভোটাররা তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেন।”নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। ভোটারদের মধ্যেও পছন্দের প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন পর ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ইউনিটের সদস্যদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।এখন সবার নজর ৩১ অক্টোবরের ভোটের দিকে। সাধারণ সম্পাদক পদে কে নির্বাচিত হন এবং পাঁচটি সদস্য পদে কারা বিজয়ী হন, তা জানতে অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।
Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।