ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে ইসদাইরের আলোচিত শ্যামার বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের মধ্যেই দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তাকে এখন প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির ঘনিষ্ঠতা ও প্রশ্রয়েই শ্যামা ফের এলাকায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু শ্যামাই নয়, তার নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সদস্যদেরও ইসদাইর এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য, হাসিনা সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে ইসদাইর এলাকায় শ্যামার ছিল পূর্ন প্রভাব। তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, তার প্রভাব এতোটাই ছিল যে, ইসদাইর এলাকায় বিভিন্ন বিষয়ে তার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। পৌর ওসমানী স্টেডিয়ামকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তার প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্টেডিয়ামের সীমানার বাহিরের অংশে থাকা বড় একটি অংশ দখল করে ঝুটের গোডাউন স্থাপন ও ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজেও ঝুট ব্যবসার করতেন। সেখানটাতেই ছিলো তার ব্যক্তিগত কার্যালয়। এই কার্যালয়ে বসেই নিয়ন্ত্রণ করতো ইসদাইর এলাকার অপরাধী জগৎ।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শ্যামা তার সহযোগীদের নিয়ে চাষাঢ়ার বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশপাশের এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় অংশ নিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ছবির কথা উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা। একটি ছবিতে বঙ্গবন্ধু সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার দৃশ্য দেখা যায় বলে তাদের দাবি।
স্থানীয় সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ছবিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা রাফেল প্রধানকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে আন্দোলনকারীদের টার্গেক করে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। তার পাশেই শ্যামাসহ আরও কয়েকজন অবস্থান করছিলেন । অপর একটি দৃশ্যে শ্যামার সহযোগী হিসেবে পরিচিত টিটু ওরফে ডানো টিটুকেও দেখা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে পর কিছুদিন শ্যামাকে প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও পরবর্তীতে পৌর ওসমানী স্টেডিয়ামে আয়োজিত একটি ক্রীড়া টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে তাকে ফের প্রকাশ্যে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, ওই অনুষ্ঠানে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির সঙ্গে ফটোসেশনে শ্যামাকে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। অনুষ্ঠানে রনি ও শ্যামাকে দীর্ঘ সময় আলাপচারিতায়ও দেখা গেছে বলে উপস্থিত কয়েকজন দাবি করেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, জুলাই আন্দোলনে হামলার মতো গুরুতর অভিযোগ যাকে ঘিরে রয়েছে, এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ্য একটি অনুষ্ঠানে একজন রাজনৈতিক নেতার পাশে অবস্থান করার সুযোগ পেলেন?
স্থানীয় সূত্রগুলো আরও দাবি করছে, ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ে শ্যামার দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে। সেই পরিচিতির সূত্র ধরেই জেলা ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে মশিউর রহমান রনিকে শ্যামা সহযোগিতা করেছিলেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তীতে সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই রনির সহযোগিতায় শ্যামা এলাকায় আবারও এলাকায় ফিরে এসে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
শ্যামার প্রকাশ্যে ফেরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও রাজনৈতিক মহলেও নানা আলোচনা চলছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের প্রশ্ন, জুলাই আন্দোলনের সময় হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেনো একজন রাজনৈতিক নেতা তার সঙ্গে প্রকাশ্যে ঘনিষ্ঠতা দেখাচ্ছেন?
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে সঙ্গে রাখা রাজনৈতিকভাবে নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক নেতা জানান,শ্যামার সাথে রনির সম্পর্ক বা খোশগল্পে মেতে থাকতে দেখে কেউ কেউ অবাক হলে ও তিনি মোটেও অবাক হননি। কারন আওয়ামী পরিবার থেকে বেড়ে উঠা রনি ফ্যাসিস্ট দোসরের সহায়তায় নিয়ে এতোদুর এসেছে। তার সাথে আওয়ামী নেতাদের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি বেশ পুরোনো। এতে করে কারোরই অবাক হওয়ার কিছু নেই। ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে তাদের নিকট থেকে সুবিধা পেয়েছে বলেইতো আজ তাদেরকেও সর্ব প্রকার সুবিদা দিয়ে আসছে। এটাকে এক কথায় বলা যায় রাজনৈতিক ময়দানের" গিভ এন্ড টেইকের" খেলা।
মশিউর রহমান রনির বিরুদ্ধে এর আগেও আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ বা সাবেক ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে তৃণমূলেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন কি শ্যামার রাজনৈতিক বিষয়ে অবগত নয়? শ্যামার মতো একজন ফ্যাসিস্ট দোসরকে গ্রেফতারে প্রশাসনের কি কোন বাধা রয়েছে?শ্যামাকে ঘিরে এমন নানা প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় মহলগুলোতে।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে ইসদাইরের আলোচিত শ্যামার বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের মধ্যেই দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তাকে এখন প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির ঘনিষ্ঠতা ও প্রশ্রয়েই শ্যামা ফের এলাকায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু শ্যামাই নয়, তার নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সদস্যদেরও ইসদাইর এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য, হাসিনা সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে ইসদাইর এলাকায় শ্যামার ছিল পূর্ন প্রভাব। তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, তার প্রভাব এতোটাই ছিল যে, ইসদাইর এলাকায় বিভিন্ন বিষয়ে তার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। পৌর ওসমানী স্টেডিয়ামকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তার প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্টেডিয়ামের সীমানার বাহিরের অংশে থাকা বড় একটি অংশ দখল করে ঝুটের গোডাউন স্থাপন ও ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজেও ঝুট ব্যবসার করতেন। সেখানটাতেই ছিলো তার ব্যক্তিগত কার্যালয়। এই কার্যালয়ে বসেই নিয়ন্ত্রণ করতো ইসদাইর এলাকার অপরাধী জগৎ।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শ্যামা তার সহযোগীদের নিয়ে চাষাঢ়ার বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশপাশের এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় অংশ নিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ছবির কথা উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা। একটি ছবিতে বঙ্গবন্ধু সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার দৃশ্য দেখা যায় বলে তাদের দাবি।
স্থানীয় সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ছবিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা রাফেল প্রধানকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে আন্দোলনকারীদের টার্গেক করে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। তার পাশেই শ্যামাসহ আরও কয়েকজন অবস্থান করছিলেন । অপর একটি দৃশ্যে শ্যামার সহযোগী হিসেবে পরিচিত টিটু ওরফে ডানো টিটুকেও দেখা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে পর কিছুদিন শ্যামাকে প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও পরবর্তীতে পৌর ওসমানী স্টেডিয়ামে আয়োজিত একটি ক্রীড়া টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে তাকে ফের প্রকাশ্যে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, ওই অনুষ্ঠানে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির সঙ্গে ফটোসেশনে শ্যামাকে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। অনুষ্ঠানে রনি ও শ্যামাকে দীর্ঘ সময় আলাপচারিতায়ও দেখা গেছে বলে উপস্থিত কয়েকজন দাবি করেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, জুলাই আন্দোলনে হামলার মতো গুরুতর অভিযোগ যাকে ঘিরে রয়েছে, এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ্য একটি অনুষ্ঠানে একজন রাজনৈতিক নেতার পাশে অবস্থান করার সুযোগ পেলেন?
স্থানীয় সূত্রগুলো আরও দাবি করছে, ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ে শ্যামার দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে। সেই পরিচিতির সূত্র ধরেই জেলা ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে মশিউর রহমান রনিকে শ্যামা সহযোগিতা করেছিলেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তীতে সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই রনির সহযোগিতায় শ্যামা এলাকায় আবারও এলাকায় ফিরে এসে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
শ্যামার প্রকাশ্যে ফেরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও রাজনৈতিক মহলেও নানা আলোচনা চলছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের প্রশ্ন, জুলাই আন্দোলনের সময় হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেনো একজন রাজনৈতিক নেতা তার সঙ্গে প্রকাশ্যে ঘনিষ্ঠতা দেখাচ্ছেন?
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে সঙ্গে রাখা রাজনৈতিকভাবে নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক নেতা জানান,শ্যামার সাথে রনির সম্পর্ক বা খোশগল্পে মেতে থাকতে দেখে কেউ কেউ অবাক হলে ও তিনি মোটেও অবাক হননি। কারন আওয়ামী পরিবার থেকে বেড়ে উঠা রনি ফ্যাসিস্ট দোসরের সহায়তায় নিয়ে এতোদুর এসেছে। তার সাথে আওয়ামী নেতাদের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি বেশ পুরোনো। এতে করে কারোরই অবাক হওয়ার কিছু নেই। ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে তাদের নিকট থেকে সুবিধা পেয়েছে বলেইতো আজ তাদেরকেও সর্ব প্রকার সুবিদা দিয়ে আসছে। এটাকে এক কথায় বলা যায় রাজনৈতিক ময়দানের" গিভ এন্ড টেইকের" খেলা।
মশিউর রহমান রনির বিরুদ্ধে এর আগেও আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ বা সাবেক ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে তৃণমূলেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন কি শ্যামার রাজনৈতিক বিষয়ে অবগত নয়? শ্যামার মতো একজন ফ্যাসিস্ট দোসরকে গ্রেফতারে প্রশাসনের কি কোন বাধা রয়েছে?শ্যামাকে ঘিরে এমন নানা প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় মহলগুলোতে।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন