নারায়ণগঞ্জে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান চলছে। নিয়মিত এসব অভিযানের খবর ও চিত্র সামনে এলেও নগরীর অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এরই মধ্যে এবার শহরের আমলাপাড়া এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক শীতলক্ষ্যা পত্রিকার সম্পাদক আরিফুল আলম দিপু এবং তাঁর মেয়ে।
আরিফুল আলম দিপুর ছিনতাইয়ের সংবাদ শহরময় ছরিয়ে পরলে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন ঢাক ঢোল পিটিয়ে সামনে পিছে ক্যামেরা রেখে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান অপরাধ দমনে কতোটা কার্যকর বা সফল?
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে দিতে গিয়ে তিন মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তাঁরা। এ সময় ছুরি ও আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, মেয়ের মোবাইল ফোন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন আরিফুল আলম দিপু।
সাংবাদিক আরিফুল আলম দিপুর ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের পরও দিনের আলো ফোটার আগেই জনবহুল নগরীর একটি এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় অপরাধ দমনে এসব অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
ভুক্তভোগী আরিফুল আলম দিপুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে মেয়েকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বাসে তুলে দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় আমলাপাড়ার আসনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি তাঁদের পথরোধ করেন।
একপর্যায়ে ছুরি দেখিয়ে তাঁরা দিপু ও তাঁর মেয়ের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। দিপুর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর কাছে থাকা প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
ঘটনার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ছিনতাইকারীর কবলে পড়লাম। সকাল ৬.২০ মিনিটে মেয়েকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বাসে তুলে দিতে গিয়ে আমলাপাড়া আসনা ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের সামনে ৩ হোন্ডারোহী ছিনতাইকারী মোবাইল, মেয়ের কানের দুল, আমার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয় ছুরি ধরে। ভাগ্যিস নিজের মোবাইলটা সাথে নেইনি। এই হলো আমাদের শহরের প্রতিদিনের চিত্র।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আরিফুল আলম দিপু জানান, একটি মোটরসাইকেলে তিনজন ছিল। তাঁদের মধ্যে একজনের হাতে বড় ছোরা এবং অন্য একজনের কাছে সম্ভবত পিস্তল ছিল।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসাই তখন তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সঙ্গে মেয়ে থাকায় তিনি আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ কারণে ছিনতাইকারীদের চেহারা বা অন্যান্য বিষয় ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার মতো পরিস্থিতি ছিল না।
দিপুর ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর বিভিন্নজন মন্তব্য করে নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ নিজেদের ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান চললেও এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সকালবেলায় মেয়েকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার বাসে তুলে দিতে গিয়ে একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনা নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ছিনতাইপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত টহল, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নজরদারি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান চলছে। নিয়মিত এসব অভিযানের খবর ও চিত্র সামনে এলেও নগরীর অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এরই মধ্যে এবার শহরের আমলাপাড়া এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক শীতলক্ষ্যা পত্রিকার সম্পাদক আরিফুল আলম দিপু এবং তাঁর মেয়ে।
আরিফুল আলম দিপুর ছিনতাইয়ের সংবাদ শহরময় ছরিয়ে পরলে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন ঢাক ঢোল পিটিয়ে সামনে পিছে ক্যামেরা রেখে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান অপরাধ দমনে কতোটা কার্যকর বা সফল?
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে দিতে গিয়ে তিন মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তাঁরা। এ সময় ছুরি ও আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, মেয়ের মোবাইল ফোন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন আরিফুল আলম দিপু।
সাংবাদিক আরিফুল আলম দিপুর ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের পরও দিনের আলো ফোটার আগেই জনবহুল নগরীর একটি এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় অপরাধ দমনে এসব অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
ভুক্তভোগী আরিফুল আলম দিপুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে মেয়েকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বাসে তুলে দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় আমলাপাড়ার আসনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি তাঁদের পথরোধ করেন।
একপর্যায়ে ছুরি দেখিয়ে তাঁরা দিপু ও তাঁর মেয়ের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। দিপুর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর কাছে থাকা প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
ঘটনার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ছিনতাইকারীর কবলে পড়লাম। সকাল ৬.২০ মিনিটে মেয়েকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বাসে তুলে দিতে গিয়ে আমলাপাড়া আসনা ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের সামনে ৩ হোন্ডারোহী ছিনতাইকারী মোবাইল, মেয়ের কানের দুল, আমার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয় ছুরি ধরে। ভাগ্যিস নিজের মোবাইলটা সাথে নেইনি। এই হলো আমাদের শহরের প্রতিদিনের চিত্র।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আরিফুল আলম দিপু জানান, একটি মোটরসাইকেলে তিনজন ছিল। তাঁদের মধ্যে একজনের হাতে বড় ছোরা এবং অন্য একজনের কাছে সম্ভবত পিস্তল ছিল।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসাই তখন তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সঙ্গে মেয়ে থাকায় তিনি আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ কারণে ছিনতাইকারীদের চেহারা বা অন্যান্য বিষয় ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার মতো পরিস্থিতি ছিল না।
দিপুর ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর বিভিন্নজন মন্তব্য করে নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ নিজেদের ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান চললেও এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সকালবেলায় মেয়েকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার বাসে তুলে দিতে গিয়ে একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনা নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ছিনতাইপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত টহল, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নজরদারি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন