সারা নারায়ণগঞ্জ

মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার সেই বাবু'র বিরুদ্ধেই রয়েছে মাদকের অভিযোগ



মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার সেই বাবু'র  বিরুদ্ধেই  রয়েছে মাদকের অভিযোগ
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নাজমুল হাসান বাবুর বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ব্যবসার অভিযোগ


মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের দাবীতে তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে জেলা পুলিশ সুপার,মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগে  লিখিত আকারে জমা দিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনায় উঠে আসা নাজমুল হাসান বাবু'র বিরুদ্ধেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি নতুন নয় বেশ পুরোনো। তবে মাদক লেনদেনের একটি অডিও ক্লিপ কে ঘিরে আবারে আলোচনা উঠে এসেছে নাজমুল হাসান বাবুর নাম।

নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্যে সে প্রতিপক্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মাদকের সাথে সংশ্লিট নেই এমন অনেককেই তালিকায়যুক্ত করা হয়েছিলো বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। 

 নাজমুল হাসান বাবু ফতুল্লাঞ্চলের দাপা খোজঁপাড়ার বাসীন্দা বলে দাবী করলেও তার গ্রামের বাড়ী বরিশালঞ্চলে। ফতুল্লাতে নেই কোন নিজস্ব বাড়ী বা  নিকটাত্নীয় স্বজন। তিনি বিয়ে করেছেন ফতুল্লার কোতালেরবাগস্থ এস,কে মডেল স্কুল এলাকায়। তিনি কোথায় বসবাস করেন নির্দিস্ট করে কেউ বলতে পারেনা।

তার রাজনৈতিক পরিচয় হলো তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক।আর এটাকে পুঁজি করেই সরকারি বিভিন্ন দপ্তরগুলোতে প্রভাবের পাশাপাশি তিনি মানুষকে ধোকা দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে আর্থিক ফায়দা লুটে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফ্যাসিস্ট দোসরদের সাথে ও তার সুসম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে।

নারায়নগঞ্জের রাজনীতিতে তার তেমন কোন ভুমীকা নেই বললেই চলে। নেই তেমন কর্মী বা সমর্থক। যে কজন তাকে সব সময় রাজনীতি চলার পথে সর্ব প্রকার সমর্থন দিয়ে আসছিলো তার নৈতিকতার কারনে তারা ও নাজমুল হাসান বাবু'র সাথে সম্পর্কের ইতি টেনেছে। 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় পদে থাকা বরিশালঞ্চলের শির্ষ নেতাদের সাথে আঞ্চলিকতার পরিচয় বহন করে তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে প্রথমে জেলা ছাত্রদল পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক পদ বাগিয়ে নেয়।

নারায়নগঞ্জের রাজনীতিতে কোন প্রকার অবদান না রাখলেও হাসিনা সরকার পতনের পর আলোচনার থাকতে সরকারের বিভিন্ন শির্ষ কর্মকর্তা সহ প্রশাসনের শির্ষ কর্মকর্তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে সৌজন্য মূলক সাক্ষাৎ করে নিজেকে জাহির করার চেস্টা করেন। সাক্ষাৎ করার ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ কিছু নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে তা প্রকাশ করে আলোচনায় আসার চেস্টা করেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে পোর্টালগুলোকে ব্যবহার করে বিবৃতি দিয়ে তা প্রকাশ করাতেন। শিবু মার্কেট এলাকায় অফিস নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিকট থেকে কাজ এনে দেবার  কথা বলে ধোকা দিয়ে একাধিক জনের নিকট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়। একই সাথে সীমান্তবর্তী টেকনাফ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট এনে ঢাকার কেরানীগঞ্জে মজুদ রেখে লোক মারফত ফতুল্লা,রুপগঞ্জ,সাইনবোর্ড সহ বিভিন্ন এলাকার খুচড়া মাদক বিক্রেতাদের সাথে মাদক ব্যবসা শুরু করেন। তবে সুচতুর নাজমুল হাসান বাবু তার খুব কাছের লোক দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করাতেন।  শিবু মার্কেট,রামারবাগ,ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর, রেলস্টেশন সহ আশপাশ এলাকার মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রথমেই উল্লেখিত এলাকার স্থানীয় খুচড়া মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করেন। অপরদিকে বিভিন্ন সময় মাদক বিরোধী মন্তব্য করে নিজ ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন। সে সকল পোস্টগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে অনেকেই তাকে সমর্থন করতে শুরু করেন। প্রতারনার সকল কৌশল রপ্ত করা নাজমুল হাসান বাবু সাধারন মানুষের সমর্থন কে পুঁজি করে তার লোকের নিকট থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয় করা মাদক ব্যবসায়ীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সহ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের দাবীতে স্মারক লিপি প্রদান করেন এবং মানববন্ধন সহ প্রতিনিয়ত মাদক বিরোধি সভা সহ গণমাধ্যমগুলোতে মাদক বিরোধি বিবৃতি দিয়ে নিজেকে সব সময় আলোচনায় রাখতেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচে একাধিকবার মাদক বিরোধী সভা করে প্রশাসন কে দায়ী করে বক্তব্য রাখেন। এমনকি মাদক বিরোধী সংগঠন ও  তৈরি করেন। প্রশাসনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়াটাও  ফায়দা হাসিলে তার কৌশল ছিলো। যাতে করে কোন তদ্ধবিরে গেলে প্রশাসন সহজেই তার কাজটা করে দেন। প্রথম দিকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষটাকে স্বাভাবিক মনে করলেও  হঠাৎ করেই মাদকের বিরুদ্ধে নাজমুল হাসান বাবু'র এমন ভুমিকা 

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাঝে কিছুটা  সন্দেহের সৃস্টি হয়। তারা নাজমুল হাসান বাবুর বিষয়ে খোঁজ করতে গিয়ে প্রথমেই বড় ধরনের ধাক্কা খান। তারা জানতে পারেন নাজমুল হাসান বাবুর মাদক ব্যবসার হাতে খরি হয় ফতুল্লার দাপা বেপাড়ী এলাকা থেকে। সেখানে সে মাদক সিন্ডিকেটের মাদক বিক্রির টাকা এবং ফেনসিডিল সিরাপ নামের  মাদকের একটি চালান নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। এমন সংবাদে গোয়েন্দা সংস্থার আর বুজার বাকী রইলোনা যে, ফতুলাঞ্চলের মাদক বাজারে প্রভাব বিস্তারে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মাদক বিরোধী সভা,মানববন্ধন, স্মারক লিপি প্রদান করা ছিলো তার নিখুঁত পরিকল্পনার একটি অংশ মাত্র। মাঠ পর্যায়ে পাওয়া তথ্যগুলো সংশ্লিস্ট উপরের মহলগুলোতে জানিয়ে দেওয়া হলে নাজমুল হাসান বাবুকে প্রশাসনের একটি পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে শিবু মার্কেট এলাকার শক্তিশালী একটি মাদক সিন্ডিকেটের সাথে তার মনমালিন্য হলে সে কাউকে কিছু না জানিয়ে শিবুমার্কেস্থ অফিস ছেড়ে দিয়ে অনত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন ছিলোনা তার কোন হদিস।শুধু মাত্র ফেসবুকে তার উপস্থিতি লক্ষ করা যেতো।আদর্শ আর নীতি বাক্যের পোস্ট দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবী করতো। এরই মাঝে নাজমুল হাসান বাবু' র সাথে মাদকের চালান নিয়ে বা মাদক চালানের অর্থের লেনদেন কে কেন্দ্র করে তার একান্ত ঘনিষ্ঠজন রকির সাথে বিরোধ হয়।  মুঠোফোনে রকি কে গালমন্দ সহ রকিকে খুজতে আরেক মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী মুসলিমের লোকজন নিয়ে অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দাপা খোজপাড়াস্থ রকির ভাড়া বাসায় খুঁজতে যায়। কিন্ত রকি বিষয়টি টের পেয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে নদীর ওপার কাওটাইল শ্বশুড় বাড়ী এলাকা চলে যায়। এ নিয়ে রকির স্ত্রী ফতুল্লা মডেল থানায় স্বামী রকি সহ পরিবারের সদস্যদে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারন ডায়েরী করেন পাশাপাশি মাদক ব্যবসার লেনদেন ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক বয়েস গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট পৌছে দেয়। এবং বাবুর ম্যাসেঞ্জার থেকে একাধিক ইয়াবা ট্যাবলেটের পাঠানো ছবি গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে চলে আসে।বাবুর দেওয়া বয়েস গুলোতে থাকার  একটিতে শোনা যায়, তিন প্রকারের মালের মধ্যে "ডায়মন্ড যে মালটা সেটা খুবই ভালো কোয়ালিটির মাল। ছবিতে পাঠানো তিনটি মালই খেয়ে দেখেছি ডায়মন্ড মালটাই সবচাইতে  ভালো। এখানে(ফতুল্লা) পৌছানো পর্যন্ত ১ শত ৪০ থেকে ৫০ টাকা পরবে। ইয়াবা ট্যাবলেটের ছবি সহ বাবুর অডিও প্রকাশ করলে নাজমুল হাসান বাবুর সেই অতিতের  মাদক ব্যবসার ঘটনা আবারো নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনের প্রতিটি বিভাগের কর্মকর্তারা নাজমুল হাসান বাবুর মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি শতভাগ সত্যি  বলে মনে করেন। ধূরন্ধর সুচতুর বাবু তখন দ্রুত একাধিক অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে জানান,যে অডিওটি ভাইরাল হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তহীন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এ,আই,দিয়ে তৈরি করা অডিওটি।

নাজমুল হাসান বাবুর এমন মিথ্যাচারের বিপরীতে তার ঘনিষ্ঠজনেরা বলেন, এটা কোন এআই দিয়ে তৈরি করানা। ভাইরাল হওয়া অডিওটি শতভাগ নাজমুল হাসান বাবুর। মাদক সংক্রান্ত আরো একাধিক অডিও সংরক্ষনে থাকার দাবীও করে সূত্রটি।

নাজমুল হাসান বাবুর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি,মানব পাচার, প্রতারনা,মামলা বানিজ্য সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। 


মাদক লেনদেনের অডিও প্রকাশের পর তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট দাবী করেন উন্নত তথ্য প্রযুক্তির এ আই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে অডিওটি। 


স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবী নাজমুল হাসান বাবুর বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত স্বাপেক্ষে যেনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।





আপনার মতামত লিখুন

সারা নারায়ণগঞ্জ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার সেই বাবু'র বিরুদ্ধেই রয়েছে মাদকের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের দাবীতে তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে জেলা পুলিশ সুপার,মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগে  লিখিত আকারে জমা দিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনায় উঠে আসা নাজমুল হাসান বাবু'র বিরুদ্ধেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি নতুন নয় বেশ পুরোনো। তবে মাদক লেনদেনের একটি অডিও ক্লিপ কে ঘিরে আবারে আলোচনা উঠে এসেছে নাজমুল হাসান বাবুর নাম।

নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্যে সে প্রতিপক্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মাদকের সাথে সংশ্লিট নেই এমন অনেককেই তালিকায়যুক্ত করা হয়েছিলো বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। 

 নাজমুল হাসান বাবু ফতুল্লাঞ্চলের দাপা খোজঁপাড়ার বাসীন্দা বলে দাবী করলেও তার গ্রামের বাড়ী বরিশালঞ্চলে। ফতুল্লাতে নেই কোন নিজস্ব বাড়ী বা  নিকটাত্নীয় স্বজন। তিনি বিয়ে করেছেন ফতুল্লার কোতালেরবাগস্থ এস,কে মডেল স্কুল এলাকায়। তিনি কোথায় বসবাস করেন নির্দিস্ট করে কেউ বলতে পারেনা।

তার রাজনৈতিক পরিচয় হলো তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক।আর এটাকে পুঁজি করেই সরকারি বিভিন্ন দপ্তরগুলোতে প্রভাবের পাশাপাশি তিনি মানুষকে ধোকা দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে আর্থিক ফায়দা লুটে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফ্যাসিস্ট দোসরদের সাথে ও তার সুসম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে।

নারায়নগঞ্জের রাজনীতিতে তার তেমন কোন ভুমীকা নেই বললেই চলে। নেই তেমন কর্মী বা সমর্থক। যে কজন তাকে সব সময় রাজনীতি চলার পথে সর্ব প্রকার সমর্থন দিয়ে আসছিলো তার নৈতিকতার কারনে তারা ও নাজমুল হাসান বাবু'র সাথে সম্পর্কের ইতি টেনেছে। 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় পদে থাকা বরিশালঞ্চলের শির্ষ নেতাদের সাথে আঞ্চলিকতার পরিচয় বহন করে তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে প্রথমে জেলা ছাত্রদল পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক পদ বাগিয়ে নেয়।

নারায়নগঞ্জের রাজনীতিতে কোন প্রকার অবদান না রাখলেও হাসিনা সরকার পতনের পর আলোচনার থাকতে সরকারের বিভিন্ন শির্ষ কর্মকর্তা সহ প্রশাসনের শির্ষ কর্মকর্তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে সৌজন্য মূলক সাক্ষাৎ করে নিজেকে জাহির করার চেস্টা করেন। সাক্ষাৎ করার ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ কিছু নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে তা প্রকাশ করে আলোচনায় আসার চেস্টা করেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে পোর্টালগুলোকে ব্যবহার করে বিবৃতি দিয়ে তা প্রকাশ করাতেন। শিবু মার্কেট এলাকায় অফিস নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিকট থেকে কাজ এনে দেবার  কথা বলে ধোকা দিয়ে একাধিক জনের নিকট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়। একই সাথে সীমান্তবর্তী টেকনাফ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট এনে ঢাকার কেরানীগঞ্জে মজুদ রেখে লোক মারফত ফতুল্লা,রুপগঞ্জ,সাইনবোর্ড সহ বিভিন্ন এলাকার খুচড়া মাদক বিক্রেতাদের সাথে মাদক ব্যবসা শুরু করেন। তবে সুচতুর নাজমুল হাসান বাবু তার খুব কাছের লোক দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করাতেন।  শিবু মার্কেট,রামারবাগ,ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর, রেলস্টেশন সহ আশপাশ এলাকার মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রথমেই উল্লেখিত এলাকার স্থানীয় খুচড়া মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করেন। অপরদিকে বিভিন্ন সময় মাদক বিরোধী মন্তব্য করে নিজ ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন। সে সকল পোস্টগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে অনেকেই তাকে সমর্থন করতে শুরু করেন। প্রতারনার সকল কৌশল রপ্ত করা নাজমুল হাসান বাবু সাধারন মানুষের সমর্থন কে পুঁজি করে তার লোকের নিকট থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয় করা মাদক ব্যবসায়ীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সহ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের দাবীতে স্মারক লিপি প্রদান করেন এবং মানববন্ধন সহ প্রতিনিয়ত মাদক বিরোধি সভা সহ গণমাধ্যমগুলোতে মাদক বিরোধি বিবৃতি দিয়ে নিজেকে সব সময় আলোচনায় রাখতেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচে একাধিকবার মাদক বিরোধী সভা করে প্রশাসন কে দায়ী করে বক্তব্য রাখেন। এমনকি মাদক বিরোধী সংগঠন ও  তৈরি করেন। প্রশাসনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়াটাও  ফায়দা হাসিলে তার কৌশল ছিলো। যাতে করে কোন তদ্ধবিরে গেলে প্রশাসন সহজেই তার কাজটা করে দেন। প্রথম দিকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষটাকে স্বাভাবিক মনে করলেও  হঠাৎ করেই মাদকের বিরুদ্ধে নাজমুল হাসান বাবু'র এমন ভুমিকা 

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাঝে কিছুটা  সন্দেহের সৃস্টি হয়। তারা নাজমুল হাসান বাবুর বিষয়ে খোঁজ করতে গিয়ে প্রথমেই বড় ধরনের ধাক্কা খান। তারা জানতে পারেন নাজমুল হাসান বাবুর মাদক ব্যবসার হাতে খরি হয় ফতুল্লার দাপা বেপাড়ী এলাকা থেকে। সেখানে সে মাদক সিন্ডিকেটের মাদক বিক্রির টাকা এবং ফেনসিডিল সিরাপ নামের  মাদকের একটি চালান নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। এমন সংবাদে গোয়েন্দা সংস্থার আর বুজার বাকী রইলোনা যে, ফতুলাঞ্চলের মাদক বাজারে প্রভাব বিস্তারে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মাদক বিরোধী সভা,মানববন্ধন, স্মারক লিপি প্রদান করা ছিলো তার নিখুঁত পরিকল্পনার একটি অংশ মাত্র। মাঠ পর্যায়ে পাওয়া তথ্যগুলো সংশ্লিস্ট উপরের মহলগুলোতে জানিয়ে দেওয়া হলে নাজমুল হাসান বাবুকে প্রশাসনের একটি পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে শিবু মার্কেট এলাকার শক্তিশালী একটি মাদক সিন্ডিকেটের সাথে তার মনমালিন্য হলে সে কাউকে কিছু না জানিয়ে শিবুমার্কেস্থ অফিস ছেড়ে দিয়ে অনত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন ছিলোনা তার কোন হদিস।শুধু মাত্র ফেসবুকে তার উপস্থিতি লক্ষ করা যেতো।আদর্শ আর নীতি বাক্যের পোস্ট দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবী করতো। এরই মাঝে নাজমুল হাসান বাবু' র সাথে মাদকের চালান নিয়ে বা মাদক চালানের অর্থের লেনদেন কে কেন্দ্র করে তার একান্ত ঘনিষ্ঠজন রকির সাথে বিরোধ হয়।  মুঠোফোনে রকি কে গালমন্দ সহ রকিকে খুজতে আরেক মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী মুসলিমের লোকজন নিয়ে অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দাপা খোজপাড়াস্থ রকির ভাড়া বাসায় খুঁজতে যায়। কিন্ত রকি বিষয়টি টের পেয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে নদীর ওপার কাওটাইল শ্বশুড় বাড়ী এলাকা চলে যায়। এ নিয়ে রকির স্ত্রী ফতুল্লা মডেল থানায় স্বামী রকি সহ পরিবারের সদস্যদে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারন ডায়েরী করেন পাশাপাশি মাদক ব্যবসার লেনদেন ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক বয়েস গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট পৌছে দেয়। এবং বাবুর ম্যাসেঞ্জার থেকে একাধিক ইয়াবা ট্যাবলেটের পাঠানো ছবি গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে চলে আসে।বাবুর দেওয়া বয়েস গুলোতে থাকার  একটিতে শোনা যায়, তিন প্রকারের মালের মধ্যে "ডায়মন্ড যে মালটা সেটা খুবই ভালো কোয়ালিটির মাল। ছবিতে পাঠানো তিনটি মালই খেয়ে দেখেছি ডায়মন্ড মালটাই সবচাইতে  ভালো। এখানে(ফতুল্লা) পৌছানো পর্যন্ত ১ শত ৪০ থেকে ৫০ টাকা পরবে। ইয়াবা ট্যাবলেটের ছবি সহ বাবুর অডিও প্রকাশ করলে নাজমুল হাসান বাবুর সেই অতিতের  মাদক ব্যবসার ঘটনা আবারো নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনের প্রতিটি বিভাগের কর্মকর্তারা নাজমুল হাসান বাবুর মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি শতভাগ সত্যি  বলে মনে করেন। ধূরন্ধর সুচতুর বাবু তখন দ্রুত একাধিক অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে জানান,যে অডিওটি ভাইরাল হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তহীন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এ,আই,দিয়ে তৈরি করা অডিওটি।

নাজমুল হাসান বাবুর এমন মিথ্যাচারের বিপরীতে তার ঘনিষ্ঠজনেরা বলেন, এটা কোন এআই দিয়ে তৈরি করানা। ভাইরাল হওয়া অডিওটি শতভাগ নাজমুল হাসান বাবুর। মাদক সংক্রান্ত আরো একাধিক অডিও সংরক্ষনে থাকার দাবীও করে সূত্রটি।

নাজমুল হাসান বাবুর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি,মানব পাচার, প্রতারনা,মামলা বানিজ্য সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। 


মাদক লেনদেনের অডিও প্রকাশের পর তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট দাবী করেন উন্নত তথ্য প্রযুক্তির এ আই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে অডিওটি। 


স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবী নাজমুল হাসান বাবুর বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত স্বাপেক্ষে যেনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।






সারা নারায়ণগঞ্জ

সম্পাদকঃ হাসান মাহমুদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার সেই বাবু'র বিরুদ্ধেই রয়েছে মাদকের অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x