অপরাধ দমনে কঠোর অভিযান, বদলে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের চিত্র
চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও হত্যাসহ নানা অপরাধে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগে ছিল নারায়ণগঞ্জবাসী। এমন পরিস্থিতিতে জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে মো. হাবিবুর রহমান (পিপিএম) দায়িত্ব নেওয়ার পর অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে বলে দাবি করছে জেলা পুলিশ।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। বিশেষ করে মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সদস্যদেরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গত এক মাসে জেলার সাতটি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, চোর, ডাকাত, চাঁদাবাজ এবং নিয়মিত মামলার আসামিসহ দুই হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দিন-রাত মাঠে কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশের দাবি, অপরাধের সঙ্গে মাদকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় ও স্থান আগে থেকে প্রকাশ না করায় বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। এরই মধ্যে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।
সম্প্রতি ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অভিযানে সাইনবোর্ড এলাকা থেকে ৬১টি পাসপোর্ট, পাঁচটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছয়টি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সিলসহ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ, আড়াইহাজার ও বন্দরসহ জেলার বিভিন্ন থানায় ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলার ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কয়েকজন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের অভিযান ও তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাতের ছিনতাই ও মাদককেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাদের মতে, পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকলে চিহ্নিত অপরাধীদের তৎপরতা আরও কমে আসবে।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি কোনো বাহবা নিতে আসিনি। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে এসেছি। পুলিশের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের পেশাদার কর্মকর্তা এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।”
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি বৃহৎ শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ জেলা। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও মাদক, কিশোর গ্যাং ও সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য—মানুষ নিশ্চিন্তে রাস্তায় চলাচল করবে, ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করবেন এবং সাধারণ মানুষ রাতে শান্তিতে ঘুমাবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নারায়ণগঞ্জকে শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটতে পারে। তবে শুধু অভিযান নয়, অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নিয়মিত নজরদারিও প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
অপরাধ দমনে কঠোর অভিযান, বদলে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের চিত্র
চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও হত্যাসহ নানা অপরাধে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগে ছিল নারায়ণগঞ্জবাসী। এমন পরিস্থিতিতে জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে মো. হাবিবুর রহমান (পিপিএম) দায়িত্ব নেওয়ার পর অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে বলে দাবি করছে জেলা পুলিশ।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। বিশেষ করে মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সদস্যদেরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গত এক মাসে জেলার সাতটি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, চোর, ডাকাত, চাঁদাবাজ এবং নিয়মিত মামলার আসামিসহ দুই হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দিন-রাত মাঠে কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশের দাবি, অপরাধের সঙ্গে মাদকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় ও স্থান আগে থেকে প্রকাশ না করায় বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। এরই মধ্যে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।
সম্প্রতি ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অভিযানে সাইনবোর্ড এলাকা থেকে ৬১টি পাসপোর্ট, পাঁচটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছয়টি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সিলসহ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ, আড়াইহাজার ও বন্দরসহ জেলার বিভিন্ন থানায় ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলার ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কয়েকজন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের অভিযান ও তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাতের ছিনতাই ও মাদককেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাদের মতে, পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকলে চিহ্নিত অপরাধীদের তৎপরতা আরও কমে আসবে।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি কোনো বাহবা নিতে আসিনি। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে এসেছি। পুলিশের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের পেশাদার কর্মকর্তা এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।”
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি বৃহৎ শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ জেলা। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও মাদক, কিশোর গ্যাং ও সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য—মানুষ নিশ্চিন্তে রাস্তায় চলাচল করবে, ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করবেন এবং সাধারণ মানুষ রাতে শান্তিতে ঘুমাবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নারায়ণগঞ্জকে শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটতে পারে। তবে শুধু অভিযান নয়, অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নিয়মিত নজরদারিও প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন