সারা নারায়ণগঞ্জ

গঠনতন্ত্র বনাম পছন্দের প্রার্থী, উত্তপ্ত নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী রাজনীতি



গঠনতন্ত্র বনাম পছন্দের প্রার্থী, উত্তপ্ত নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী রাজনীতি
নারায়নগঞ্জ আদালত পাড়া উত্তপ্ত


নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা বাড়ছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসরণ এবং প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে মতবিরোধের মধ্যে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানকে শোকজ করার ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আদালতপাড়ায়। এ ঘটনাকে ঘিরে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের একাংশের অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার পক্ষেই ছিলেন আনোয়ার প্রধান। অন্যদিকে, ফোরামের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে মতপার্থক্য থেকে বিরোধের সূত্রপাত। এ বিরোধের পেছনে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

আইনজীবী ফোরামের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের আগে সাধারণ সভার মাধ্যমে প্রার্থী নির্ধারণের প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তাঁদের ভাষ্য, এবারের নির্বাচনেও সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ পূর্ণাঙ্গ প্যানেল নির্ধারণে ফোরামের সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। এর ফলে আদালতপাড়ায় কয়েক দিন ধরেই চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিরোধে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও নগর প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। 

চলতি বছরের ১৫ মে হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে আইনজীবী সমিতি ভবনের নিচে এক নারী আইনজীবীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে। ওই নারী আইনজীবীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী সমিতির সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সমিতির গঠনতন্ত্রের ৩০(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে টিপুকে নোটিশ দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।

এ ঘটনার পর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ। তাঁদের অভিযোগ, আগের ওই ঘটনার জের ধরে আনোয়ার প্রধানের বিরুদ্ধে শোকজের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। 

আনোয়ার প্রধানের সমর্থকদের দাবি, সাধারণ আইনজীবীদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, দায়িত্ব পালনকালে তিনি আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা শোনার পাশাপাশি সহযোগিতার চেষ্টা করেছেন। এ কারণে দলীয় পরিচয়ের বাইরেও আদালতপাড়ার বিভিন্ন মহলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

সমর্থকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

অন্যদিকে, নির্বাচন ঘিরে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ, প্রার্থী মনোনয়ন এবং শোকজের মতো বিষয়গুলো বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিভক্তি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী রাজনীতিতে চলমান বিরোধ এখন কেবল প্রার্থী মনোনয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, গঠনতন্ত্রের প্রয়োগ এবং নেতৃত্বের প্রভাব বিস্তারের প্রশ্ন। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

গঠনতন্ত্রের আলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ নিষ্পত্তিই এখন নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী মহলের প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন

সারা নারায়ণগঞ্জ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


গঠনতন্ত্র বনাম পছন্দের প্রার্থী, উত্তপ্ত নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী রাজনীতি

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা বাড়ছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসরণ এবং প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে মতবিরোধের মধ্যে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানকে শোকজ করার ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আদালতপাড়ায়। এ ঘটনাকে ঘিরে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের একাংশের অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার পক্ষেই ছিলেন আনোয়ার প্রধান। অন্যদিকে, ফোরামের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে মতপার্থক্য থেকে বিরোধের সূত্রপাত। এ বিরোধের পেছনে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

আইনজীবী ফোরামের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের আগে সাধারণ সভার মাধ্যমে প্রার্থী নির্ধারণের প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তাঁদের ভাষ্য, এবারের নির্বাচনেও সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ পূর্ণাঙ্গ প্যানেল নির্ধারণে ফোরামের সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। এর ফলে আদালতপাড়ায় কয়েক দিন ধরেই চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিরোধে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও নগর প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। 

চলতি বছরের ১৫ মে হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে আইনজীবী সমিতি ভবনের নিচে এক নারী আইনজীবীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে। ওই নারী আইনজীবীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী সমিতির সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সমিতির গঠনতন্ত্রের ৩০(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে টিপুকে নোটিশ দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।

এ ঘটনার পর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ। তাঁদের অভিযোগ, আগের ওই ঘটনার জের ধরে আনোয়ার প্রধানের বিরুদ্ধে শোকজের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। 

আনোয়ার প্রধানের সমর্থকদের দাবি, সাধারণ আইনজীবীদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, দায়িত্ব পালনকালে তিনি আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা শোনার পাশাপাশি সহযোগিতার চেষ্টা করেছেন। এ কারণে দলীয় পরিচয়ের বাইরেও আদালতপাড়ার বিভিন্ন মহলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

সমর্থকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

অন্যদিকে, নির্বাচন ঘিরে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ, প্রার্থী মনোনয়ন এবং শোকজের মতো বিষয়গুলো বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিভক্তি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী রাজনীতিতে চলমান বিরোধ এখন কেবল প্রার্থী মনোনয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, গঠনতন্ত্রের প্রয়োগ এবং নেতৃত্বের প্রভাব বিস্তারের প্রশ্ন। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

গঠনতন্ত্রের আলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ নিষ্পত্তিই এখন নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী মহলের প্রত্যাশা।


সারা নারায়ণগঞ্জ

সম্পাদকঃ হাসান মাহমুদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
গঠনতন্ত্র বনাম পছন্দের প্রার্থী, উত্তপ্ত নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী রাজনীতি
0:00 / 0:00
1x