নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে এ সিদ্ধান্তকে অন্যায় আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আনোয়ার প্রধান। একই সঙ্গে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
পদ স্থগিতের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আনোয়ার প্রধান বলেন, গত ৬ অক্টোবর জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে তাঁর কক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান দুপুরের খাবার খাওয়াবস্থায় পিপিকে মারধর করেন এবং অতিরিক্ত পিপি ওমর ফারুক নয়নকে আঘাত করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে তাঁরা বক্তব্য দিয়েছিলেন। একজন আইনজীবীর গায়ে আরেকজন আইনজীবীর হাত তোলার ঘটনার প্রতিবাদ করায় মহানগর বিএনপির প্রতিক্রিয়ায় তিনি লজ্জিত ও মর্মাহত বলে জানান।
তিনি বলেন, তাঁকে শোকজ করা হলে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই তিনি জবাব দিয়েছেন। এরপরও তাঁর সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দলের গঠনতন্ত্রের ৭ ধারার বিধান অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের পরামর্শের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় দপ্তরে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্টরা তাঁকে জানান, তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।
আনোয়ার প্রধানের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি তাঁর সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিত করার এখতিয়ার রাখলেও মহানগরের সদস্য পদ স্থগিত করার এখতিয়ার তাদের নেই। তাঁর ভাষ্য, আইন ও গঠনতন্ত্র সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকা এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও জেদ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে আনোয়ার প্রধান বলেন, আইনজীবীদের জন্য আদালত বিভক্ত করার উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছেন তিনি। তাঁর মতে, আদালত একটিই থাকা উচিত এবং এ বিষয়ে আইনজীবীরা সাধারণ সভার (এজিএম) মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন। আদালত বিভক্তির প্রশ্নে তাঁদের আন্দোলন চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আনোয়ার প্রধানের দাবি, আদালত বিভক্তির বিরোধিতা করায় একটি পক্ষের স্বার্থে তিনি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দিলে ওই পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারবে—এমন ধারণা থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন বলে জানান তিনি।
নিজের পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তকে অন্যায় উল্লেখ করে আনোয়ার প্রধান বলেন, আইনজীবীদের বিষয় নিয়ে মহানগর বিএনপির এভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়। তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন এবং দলীয় প্রধান তারেক রহমানের কাছে ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও আনোয়ার প্রধানকে ঘিরে আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। পরে বিষয়টি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি ও আইনজীবী মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় আনোয়ার প্রধানকে প্রথমে শোকজ করা হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই জবাব দেওয়ার পরও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁর সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই ঘটনায় মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাতের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে এ সিদ্ধান্তকে অন্যায় আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আনোয়ার প্রধান। একই সঙ্গে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
পদ স্থগিতের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আনোয়ার প্রধান বলেন, গত ৬ অক্টোবর জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে তাঁর কক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান দুপুরের খাবার খাওয়াবস্থায় পিপিকে মারধর করেন এবং অতিরিক্ত পিপি ওমর ফারুক নয়নকে আঘাত করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে তাঁরা বক্তব্য দিয়েছিলেন। একজন আইনজীবীর গায়ে আরেকজন আইনজীবীর হাত তোলার ঘটনার প্রতিবাদ করায় মহানগর বিএনপির প্রতিক্রিয়ায় তিনি লজ্জিত ও মর্মাহত বলে জানান।
তিনি বলেন, তাঁকে শোকজ করা হলে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই তিনি জবাব দিয়েছেন। এরপরও তাঁর সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দলের গঠনতন্ত্রের ৭ ধারার বিধান অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের পরামর্শের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় দপ্তরে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্টরা তাঁকে জানান, তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।
আনোয়ার প্রধানের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি তাঁর সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিত করার এখতিয়ার রাখলেও মহানগরের সদস্য পদ স্থগিত করার এখতিয়ার তাদের নেই। তাঁর ভাষ্য, আইন ও গঠনতন্ত্র সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকা এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও জেদ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে আনোয়ার প্রধান বলেন, আইনজীবীদের জন্য আদালত বিভক্ত করার উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছেন তিনি। তাঁর মতে, আদালত একটিই থাকা উচিত এবং এ বিষয়ে আইনজীবীরা সাধারণ সভার (এজিএম) মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন। আদালত বিভক্তির প্রশ্নে তাঁদের আন্দোলন চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আনোয়ার প্রধানের দাবি, আদালত বিভক্তির বিরোধিতা করায় একটি পক্ষের স্বার্থে তিনি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দিলে ওই পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারবে—এমন ধারণা থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন বলে জানান তিনি।
নিজের পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তকে অন্যায় উল্লেখ করে আনোয়ার প্রধান বলেন, আইনজীবীদের বিষয় নিয়ে মহানগর বিএনপির এভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়। তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন এবং দলীয় প্রধান তারেক রহমানের কাছে ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও আনোয়ার প্রধানকে ঘিরে আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। পরে বিষয়টি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি ও আইনজীবী মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় আনোয়ার প্রধানকে প্রথমে শোকজ করা হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই জবাব দেওয়ার পরও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁর সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই ঘটনায় মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাতের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন