সারা নারায়ণগঞ্জ

নারায়নগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নিচ থেকে আটক, ৮ ঘণ্টা পর গুলশানে মুক্তি



নারায়নগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নিচ থেকে আটক, ৮ ঘণ্টা পর গুলশানে মুক্তি
নারায়নগঞ্জ থেকে আটকের ৮ ঘন্টা পর গুলশানে মুক্তি


নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নিচ থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে তুলে নেওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর রাত পৌনে ৩টায় মুক্তি পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আল এহসান। তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে ঢাকার গুলশান থানায় সংশ্লিষ্ট মামলার কাগজপত্র উপস্থাপনের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং একজন বিচারপ্রার্থীর প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

এহসানকে আটকের ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তিকে আটক ও মুক্তি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে একটি ভবনের মালিকানা ও ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার দাবি। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না করে কেবল একজন পক্ষকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হলে তা আইন প্রয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করবেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের ভাড়া ও মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধের প্রতিকার চেয়ে এহসান প্রথমে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনার পর সালিশের মাধ্যমে এহসানের পাওনা অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় তিনি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সহায়তা চান।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে এহসান প্রেস ক্লাবে যান। অভিযোগ রয়েছে, কাগজপত্র জমা দিয়ে ভবন থেকে নিচে নামার পর ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাঁকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান।

একজন ব্যক্তি নিজের দাবি ও মালিকানার নথিপত্র নিয়ে সাংবাদিকদের সংগঠনের কাছে প্রতিকার চাইতে এসে বের হওয়ার পরপরই আটক হওয়ার ঘটনায় সংবাদকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এহসানকে ঢাকার গুলশান থানায় নেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ার যে অভিযোগ ছিল, সংশ্লিষ্ট মামলায় অব্যাহতি পাওয়ার প্রমাণপত্র তিনি উপস্থাপন করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর রাত পৌনে ৩টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এহসান ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, ভবনটির বিভিন্ন তলা ভাড়া নেওয়া এবং ভাড়ার অর্থ বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাঁদের দাবি, গত সরকারের সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ইয়াহিয়া আলম উচ্ছাস নামের এক ভাড়াটিয়া পুরো ভবনটি ভাড়া নেন। এ ঘটনায় এহসানের ছোট ভাই সানজিদ হাসনাত এবং সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাতের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভাড়া চুক্তিতে সানজিদ এককভাবে স্বাক্ষর করেন এবং শামীম ওসমান ও কায়সার হাসনাতকে সাক্ষী রাখা হয়। এতে ভবনের বড় ভাই এহসান তাঁর ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

এহসানের পক্ষের আরও অভিযোগ, ভবনের ভাড়ার একটি অংশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ভারতে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে উচ্ছাস ও সানজিদের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশে অর্থের জোগান দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ।


আপনার মতামত লিখুন

সারা নারায়ণগঞ্জ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


নারায়নগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নিচ থেকে আটক, ৮ ঘণ্টা পর গুলশানে মুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নিচ থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে তুলে নেওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর রাত পৌনে ৩টায় মুক্তি পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আল এহসান। তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে ঢাকার গুলশান থানায় সংশ্লিষ্ট মামলার কাগজপত্র উপস্থাপনের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং একজন বিচারপ্রার্থীর প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

এহসানকে আটকের ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তিকে আটক ও মুক্তি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে একটি ভবনের মালিকানা ও ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার দাবি। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না করে কেবল একজন পক্ষকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হলে তা আইন প্রয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করবেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের ভাড়া ও মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধের প্রতিকার চেয়ে এহসান প্রথমে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনার পর সালিশের মাধ্যমে এহসানের পাওনা অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় তিনি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সহায়তা চান।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে এহসান প্রেস ক্লাবে যান। অভিযোগ রয়েছে, কাগজপত্র জমা দিয়ে ভবন থেকে নিচে নামার পর ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাঁকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান।

একজন ব্যক্তি নিজের দাবি ও মালিকানার নথিপত্র নিয়ে সাংবাদিকদের সংগঠনের কাছে প্রতিকার চাইতে এসে বের হওয়ার পরপরই আটক হওয়ার ঘটনায় সংবাদকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এহসানকে ঢাকার গুলশান থানায় নেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ার যে অভিযোগ ছিল, সংশ্লিষ্ট মামলায় অব্যাহতি পাওয়ার প্রমাণপত্র তিনি উপস্থাপন করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর রাত পৌনে ৩টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এহসান ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, ভবনটির বিভিন্ন তলা ভাড়া নেওয়া এবং ভাড়ার অর্থ বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাঁদের দাবি, গত সরকারের সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ইয়াহিয়া আলম উচ্ছাস নামের এক ভাড়াটিয়া পুরো ভবনটি ভাড়া নেন। এ ঘটনায় এহসানের ছোট ভাই সানজিদ হাসনাত এবং সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাতের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভাড়া চুক্তিতে সানজিদ এককভাবে স্বাক্ষর করেন এবং শামীম ওসমান ও কায়সার হাসনাতকে সাক্ষী রাখা হয়। এতে ভবনের বড় ভাই এহসান তাঁর ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

এহসানের পক্ষের আরও অভিযোগ, ভবনের ভাড়ার একটি অংশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ভারতে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে উচ্ছাস ও সানজিদের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশে অর্থের জোগান দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ।



সারা নারায়ণগঞ্জ

সম্পাদকঃ হাসান মাহমুদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
নারায়নগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নিচ থেকে আটক, ৮ ঘণ্টা পর গুলশানে মুক্তি
0:00 / 0:00
1x