নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে জ্ঞান ও সচেতনতার অভাব অপরাধের অন্যতম কারণ। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে জানতে পারে এবং নৈতিকতা অর্জন করতে পারে। আল্লাহর প্রতি ভয় মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত থাকতে সহায়তা করে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার হাজীগঞ্জে ‘আহরনী’ পারিবারিক পাঠাগারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার এ কথা বলেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে হাজীগঞ্জ নবু মিস্ত্রি জামে মসজিদ সংলগ্ন সেলিনা মঞ্জিলে পাঠাগারটির উদ্বোধন উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের উদ্দেশ্যে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের ‘পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’—এই বাণীকে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন আয়োজকেরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার। এতে সভাপতিত্ব করেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এইচ এম নাসির উদ্দিন।
মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার আরো বলেন, ‘বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।’ পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা এক নয়। জ্ঞান অর্জনের জন্য পাঠাগারে আসা এবং বই পড়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সমাজে ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, পরস্পর বিচ্ছিন্ন না থেকে সবাইকে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ নবু মিস্ত্রি জামে মসজিদের সভাপতি আলহাজ্ব ডা. মো. জসিমউদ্দিন, তল্লা সাধারণ পাঠাগারের সভাপতি আলহাজ্ব মো. কুতুবউদ্দিন শাহীন, আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. ইব্রাহীম, আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মো. সেলিম সরকার, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. রুহুল আমীন টিপু এবং দৈনিক আলোকিত সকালের প্রতিনিধি মনির হোসেন সুমন।
আহরনী পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক আমির মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ বলেন, জ্ঞান অর্জনের বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্যে পাঠাগার অন্যতম। জীবনের একটি পর্যায়ে এসে সবার পক্ষে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় গিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না। তবে জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজন কখনো শেষ হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পথে চলতেও জ্ঞান অর্জন জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ১৯৬৪ সালে তিনি এ ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং তখনই ‘আহরনী’ নামটি নির্ধারণ করেছিলেন। তাঁর মতে, প্রতিটি বাড়িতে একটি করে পাঠাগার থাকা প্রয়োজন, যাতে পরিবারের সদস্যরা অবসর সময়ে বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন জামিয়া হুসাইনিয়া আরাবিয়া হাজীগঞ্জ মাদ্রাসার মুহতামিম আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ ইমরান হুসাইন।
আয়োজকেরা জানান, পাঠাগারটির মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি, জ্ঞানচর্চার সুযোগ বৃদ্ধি এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে জ্ঞান ও সচেতনতার অভাব অপরাধের অন্যতম কারণ। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে জানতে পারে এবং নৈতিকতা অর্জন করতে পারে। আল্লাহর প্রতি ভয় মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত থাকতে সহায়তা করে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার হাজীগঞ্জে ‘আহরনী’ পারিবারিক পাঠাগারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার এ কথা বলেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে হাজীগঞ্জ নবু মিস্ত্রি জামে মসজিদ সংলগ্ন সেলিনা মঞ্জিলে পাঠাগারটির উদ্বোধন উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের উদ্দেশ্যে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের ‘পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’—এই বাণীকে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন আয়োজকেরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার। এতে সভাপতিত্ব করেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এইচ এম নাসির উদ্দিন।
মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার আরো বলেন, ‘বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।’ পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা এক নয়। জ্ঞান অর্জনের জন্য পাঠাগারে আসা এবং বই পড়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সমাজে ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, পরস্পর বিচ্ছিন্ন না থেকে সবাইকে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ নবু মিস্ত্রি জামে মসজিদের সভাপতি আলহাজ্ব ডা. মো. জসিমউদ্দিন, তল্লা সাধারণ পাঠাগারের সভাপতি আলহাজ্ব মো. কুতুবউদ্দিন শাহীন, আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. ইব্রাহীম, আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মো. সেলিম সরকার, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. রুহুল আমীন টিপু এবং দৈনিক আলোকিত সকালের প্রতিনিধি মনির হোসেন সুমন।
আহরনী পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক আমির মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ বলেন, জ্ঞান অর্জনের বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্যে পাঠাগার অন্যতম। জীবনের একটি পর্যায়ে এসে সবার পক্ষে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় গিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না। তবে জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজন কখনো শেষ হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পথে চলতেও জ্ঞান অর্জন জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ১৯৬৪ সালে তিনি এ ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং তখনই ‘আহরনী’ নামটি নির্ধারণ করেছিলেন। তাঁর মতে, প্রতিটি বাড়িতে একটি করে পাঠাগার থাকা প্রয়োজন, যাতে পরিবারের সদস্যরা অবসর সময়ে বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন জামিয়া হুসাইনিয়া আরাবিয়া হাজীগঞ্জ মাদ্রাসার মুহতামিম আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ ইমরান হুসাইন।
আয়োজকেরা জানান, পাঠাগারটির মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি, জ্ঞানচর্চার সুযোগ বৃদ্ধি এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন