সারা নারায়ণগঞ্জ

দূর্গা মন্দিরের জমি দখল করে রেখেছে নীট কনসার্ন গ্রুপ;প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত



দূর্গা মন্দিরের জমি দখল করে রেখেছে নীট কনসার্ন গ্রুপ;প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত
প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার


নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলসের শতবর্ষী দুর্গামন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মন্দিরের জমি দখলে রাখার অভিযোগ তুলে এবার দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। তাদের দাবি, মন্দিরের জমি পরিমাপ করে বুঝিয়ে দিতে হবে এবং নিয়মিত পূজা-অর্চনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

মন্দির কমিটির নেতাদের অভিযোগ, পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান নীট কনসার্ন গ্রুপ মন্দির, পুকুর ও মাঠের জমি দখলে রেখেছে। মন্দিরের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নীট কনসার্ন গ্রুপের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলস সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মিন্টু চন্দ্র দাসের অভিযোগ, দুর্গাপূজার সময় কেবল এক সপ্তাহের জন্য মন্দিরের ফটক খুলে দেওয়া হয়। পূজা শেষে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রবেশপথ। ফলে বছরের অন্য সময় সেখানে পূজা-অর্চনা করতে পারেন না সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তরুণ লাল বেগী জানান, জমির বিরোধের বিষয়ে গত ৪ অক্টোবর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তরুণ লাল বেগীর দাবি, ২০০০ সালে কারখানাটির মালিকানা শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছে হস্তান্তরের সময় মন্দির, মসজিদ, পুকুর ও মাঠের জমি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট জমি বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা মন্দিরের জমি সঠিকভাবে পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মন্দির কমিটির নেতাদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের ১৭ জুন মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মন্দিরটি বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নিবন্ধিত। তা সত্ত্বেও সেখানে প্রবেশ ও নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

মিন্টু চন্দ্র দাস বলেন, গত বছরও একই দাবিতে প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তারা। কিন্তু এবার স্থায়ী সমাধান ছাড়া সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

সনাতন পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি টনি মল্লিকও প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, মন্দিরটি সব সময় তালাবদ্ধ থাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিয়মিত পূজা করতে পারেন না। এবার দুর্গাপ্রতিমা মন্দিরেই রেখে নিত্যপূজা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার বিকেলে মন্দিরে যান নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন। তিনি জানান, মন্দির কমিটির সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা চলছে। আগামী ২৬ অক্টোবর মন্দিরের জমি নিয়ে বৈঠকে বসার কথাও তাদের জানানো হয়েছে।

ইউএনও বলেন, পূজা কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ তুলে মন্দির কমিটি প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার কথা জানিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে প্রশাসন চেষ্টা করছে।

তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মন্দির কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, শুধু আশ্বাসের ভিত্তিতে এবার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন না তারা। অন্যদিকে, নীট কনসার্ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়নাল আবেদীন মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিনের এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান, মন্দিরের জমির সীমানা নির্ধারণ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করতে এখন প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

সারা নারায়ণগঞ্জ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


দূর্গা মন্দিরের জমি দখল করে রেখেছে নীট কনসার্ন গ্রুপ;প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলসের শতবর্ষী দুর্গামন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মন্দিরের জমি দখলে রাখার অভিযোগ তুলে এবার দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। তাদের দাবি, মন্দিরের জমি পরিমাপ করে বুঝিয়ে দিতে হবে এবং নিয়মিত পূজা-অর্চনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

মন্দির কমিটির নেতাদের অভিযোগ, পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান নীট কনসার্ন গ্রুপ মন্দির, পুকুর ও মাঠের জমি দখলে রেখেছে। মন্দিরের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নীট কনসার্ন গ্রুপের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলস সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মিন্টু চন্দ্র দাসের অভিযোগ, দুর্গাপূজার সময় কেবল এক সপ্তাহের জন্য মন্দিরের ফটক খুলে দেওয়া হয়। পূজা শেষে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রবেশপথ। ফলে বছরের অন্য সময় সেখানে পূজা-অর্চনা করতে পারেন না সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তরুণ লাল বেগী জানান, জমির বিরোধের বিষয়ে গত ৪ অক্টোবর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তরুণ লাল বেগীর দাবি, ২০০০ সালে কারখানাটির মালিকানা শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছে হস্তান্তরের সময় মন্দির, মসজিদ, পুকুর ও মাঠের জমি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট জমি বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা মন্দিরের জমি সঠিকভাবে পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মন্দির কমিটির নেতাদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের ১৭ জুন মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মন্দিরটি বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নিবন্ধিত। তা সত্ত্বেও সেখানে প্রবেশ ও নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

মিন্টু চন্দ্র দাস বলেন, গত বছরও একই দাবিতে প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তারা। কিন্তু এবার স্থায়ী সমাধান ছাড়া সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

সনাতন পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি টনি মল্লিকও প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, মন্দিরটি সব সময় তালাবদ্ধ থাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিয়মিত পূজা করতে পারেন না। এবার দুর্গাপ্রতিমা মন্দিরেই রেখে নিত্যপূজা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার বিকেলে মন্দিরে যান নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন। তিনি জানান, মন্দির কমিটির সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা চলছে। আগামী ২৬ অক্টোবর মন্দিরের জমি নিয়ে বৈঠকে বসার কথাও তাদের জানানো হয়েছে।

ইউএনও বলেন, পূজা কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ তুলে মন্দির কমিটি প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার কথা জানিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে প্রশাসন চেষ্টা করছে।

তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মন্দির কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, শুধু আশ্বাসের ভিত্তিতে এবার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন না তারা। অন্যদিকে, নীট কনসার্ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়নাল আবেদীন মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিনের এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান, মন্দিরের জমির সীমানা নির্ধারণ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করতে এখন প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।


সারা নারায়ণগঞ্জ

সম্পাদকঃ হাসান মাহমুদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দূর্গা মন্দিরের জমি দখল করে রেখেছে নীট কনসার্ন গ্রুপ;প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত
0:00 / 0:00
1x